মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৮:১১ পিএম
ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান ও সরাসরি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ। গত ৩ জানুয়ারি কারকাসে আকস্মিক মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে অপহরণের পর থেকে ওয়াশিংটন ও কারকাসের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে। সোমবার(২৬ জানুয়ারি) পুয়ের্তো লা ক্রুজ শহরের এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় রদ্রিগুয়েজ জানান, ভেনেজুয়েলা আর হোয়াইট হাউসের কোনো ‘আদেশ’ পালন করতে রাজি নয়।
দেলসি রদ্রিগুয়েজ তার ভাষণে ওয়াশিংটনের আধিপত্যকামী মনোভাবের সমালোচনা করে বলেন, আমরা ওয়াশিংটনের নির্দেশ শুনতে শুনতে ক্লান্ত; যথেষ্ট হয়েছে। ভেনেজুয়েলার ভাগ্য নির্ধারণের দায়িত্ব এ দেশের মানুষের হাতেই থাকতে দিন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে নগ্ন হস্তক্ষেপ করছে।
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করেছে যে ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। এমনকি ট্রাম্প নিজেকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।
ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে বর্তমানে এক টালমাটাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস বর্তমানে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল কারাগারে মাদক পাচারের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি। এই সংকটের মুহূর্তে দেলসি রদ্রিগুয়েজ বলেন,আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে ভয় পাই না, তবে আমরা যুদ্ধের চেয়ে শান্তির পক্ষপাতী।
তিনি আরও বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি হতে হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন গভীর উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে যে, ভেনেজুয়েলার এই অভ্যন্তরীণ সংকট ও মার্কিন সামরিক তৎপরতা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।
আরটিভি/এআর