images

আন্তর্জাতিক

সুইজারল্যান্ডে বারে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ৪১

সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৯:৫৭ এএম

সুইজারল্যান্ডের একটি আলপাইন স্কি রিসোর্টে নববর্ষ উদযাপনের সময় সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আহত আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় এই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪১ জনে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়। তিনি সুইজারল্যান্ডের নাগরিক ছিলেন।

গত ১ জানুয়ারি জনপ্রিয় স্কি রিসোর্ট ক্রঁ-মঁতানার ‘লে কঁস্তেলাসিওঁ’ নামের একটি বারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১১৫ জন আহত হন। তাদের অনেকেই এখনো বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ওয়ালিস ক্যান্টনের পাবলিক প্রসিকিউটর বিয়াত্রিস পিলু এক বিবৃতিতে জানান, তদন্ত চলমান থাকায় আপাতত এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।

আলজাজিরার তথ্যমতে, নিহতদের বয়স ছিল ১৪ থেকে ৩৯ বছরের মধ্যে। তবে অধিকাংশই ছিলেন কিশোর-কিশোরী। নিহতদের মধ্যে মাত্র চারজনের বয়স ছিল ২৪ বছরের বেশি। মোট নিহতদের মধ্যে ২৩ জন সুইস নাগরিক এবং ১৮ জন বিদেশি।

প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, বারের বেসমেন্টের ছাদের সাউন্ড ইনসুলেশন ফোমের খুব কাছাকাছি স্পার্কলার লাগানো শ্যাম্পেন বোতল উঁচু করে ধরার ফলে আগুনের সূত্রপাত হয়। ব্যবহৃত ফোমটি নিরাপত্তা বিধিমালা অনুযায়ী ছিল কি না এবং বারে মোমবাতি ব্যবহারের অনুমতি ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জানা গেছে, ২০১৯ সালের পর থেকে ওই বারে কোনো অগ্নি নিরাপত্তা পরিদর্শন করা হয়নি।

এ ঘটনায় অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড, অবহেলাজনিত শারীরিক ক্ষতি এবং অবহেলায় অগ্নিকাণ্ডের অভিযোগে বারের মালিক ফরাসি দম্পতি জাক ও জেসিকা মোরেত্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে। ভ্যালাইস অঞ্চলের আদালত ১২ জানুয়ারি জাক মোরেত্তিকে তিন মাসের জন্য প্রাক-বিচার আটক রাখার নির্দেশ দিলেও ২৩ জানুয়ারি তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। পাশাপাশি ক্রঁ-মঁতানা পৌরসভার বর্তমান জননিরাপত্তা প্রধান এবং একজন সাবেক অগ্নি নিরাপত্তা কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে।

আরও পড়ুন
pakistan

পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ৪০ ঘণ্টার অভিযান, নিহত ১৪৫

অগ্নিকাণ্ডের পর গুরুতর আহতদের হেলিকপ্টারে করে সুইজারল্যান্ডসহ ইউরোপের আরও চারটি দেশের বিশেষায়িত বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল অফিস ফর সিভিল প্রোটেকশন জানিয়েছে, সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী সোমবার পর্যন্ত ৪৪ জন রোগী বিদেশে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

ওয়ালিস স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, একই সময়ে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৭ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। রোগীদের অবস্থা পরিবর্তনশীল হওয়ায় তাদের এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে এবং কয়েকজন এখনো নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আরটিভি/এসকে