সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১০:৫৯ পিএম
বিশ্বজুড়ে এখন আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে ‘এপস্টেইন ফাইল’। বিশ্ব রাজনীতির শীর্ষ নেতা, রাজপরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে বিনোদন জগতের মহাতারকাদের নাম রয়েছে এই ফাইলে! যা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা।
মার্কিন ফিনান্সিয়ার জেফ্রি এপস্টেইন এবং তার সহযোগী গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের দীর্ঘ তদন্তের পর আদালতের নির্দেশে প্রকাশিত হয় হাজার হাজার পৃষ্ঠার এই নথি। এই ফাইলগুলো কেবল কিছু নাম নয়, বরং এটি একটি আন্তর্জাতিক শিশু পাচার ও যৌন শোষণ চক্রের প্রমাণ।
বিশ্বব্যাপী কেন এটি এত আলোচিত?
এই ফাইলটি আলোচিত হওয়ার মূল কারণ হলো এতে থাকা নামের তালিকা। বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, রাজপরিবারের সদস্য এবং ধনকুবেরদের নাম এই অপরাধচক্রের সাথে জড়িয়ে আছে।
এটি প্রমাণ করে যে, পর্দার আড়ালে এলিট সমাজ কতটা ভয়াবহ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকতে পারে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এর প্রভাব ও বিতর্ক বর্তমানে তুঙ্গে।
‘এপস্টেইন ফাইলস’ এ আসলে কী আছে?
ফাইলগুলোতে পাওয়া গেছে এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপ ‘লিটল সেন্ট জেমস’, যা ‘পাপের দ্বীপ’ (Island of Sin) হিসেবে পরিচিত, সেখানকার রোমহর্ষক বর্ণনা।
এ ছাড়া এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমান ‘ললিটা এক্সপ্রেস’ এর ফ্লাইট লগ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে দেখা গেছে কারা নিয়মিত সেই দ্বীপে যাতায়াত করতেন। ভুক্তভোগী নারীদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে অবর্ণনীয় নির্যাতনের চিত্র।
এপস্টেইন ফাইলের তালিকায় থাকা বড় বড় নামগুলো
এই নথিতে নাম আসা ব্যক্তিদের সবাই অপরাধী না হলেও, তাদের সংশ্লিষ্টতা জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। উল্লেখযোগ্য কিছু নাম হলো:
ব্ল্যাকমেইল ষড়যন্ত্র ও ভিডিও রেকর্ড
সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো এপস্টেইনের ব্ল্যাকমেইল ষড়যন্ত্র। অভিযোগ রয়েছে যে, এপস্টেইন তার দ্বীপে আসা ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের যৌন কর্মকাণ্ড গোপন ক্যামেরায় রেকর্ড করে রাখতেন। পরবর্তীতে এই ভিডিওগুলো দিয়েই তিনি বিশ্বনেতাদের ব্ল্যাকমেইল করতেন বলে ধারণা করা হয়।
জেফ্রি এপস্টেইনের অপরাধের ইতিহাস ২০০৮ সাল থেকে শুরু হলেও ২০১৯ সালে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের দিয়ে যৌন ব্যবসার নেটওয়ার্ক চালানোর অভিযোগে পুনরায় গ্রেপ্তার হন তিনি। তবে বিচারের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় কারাগারে তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়, যা নিয়ে আজও বিতর্ক রয়েছে। উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ ই-মেইল ও নথিই এখন ‘এপস্টেইন ফাইলস’ নামে পরিচিত।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে হোয়াইট হাউসের ব্যাখ্যা
প্রকাশিত নথিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম আসায় বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ২০১১ সালের একটি ইমেইলে দেখা যায়, এপস্টেইন তার সহযোগী গিসলাইন ম্যাক্সওয়েলকে লিখেছেন যে জনৈক ভিকটিম ট্রাম্পের বাড়িতে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে যে ওই ভিকটিম হলেন ভার্জিনিয়া গিফ্রে।
তবে মজার ব্যাপার হলো, খোদ ভার্জিনিয়া গিফ্রে নিজেই মৃত্যুর আগে জানিয়েছিলেন যে তিনি ট্রাম্পকে কোনো অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত হতে দেখেননি।
ট্রাম্পও দাবি করেছেন, ২০০৮ সালে এপস্টেইন প্রথমবার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই তিনি তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত কোনো নথিতেই ট্রাম্পের সরাসরি অন্যায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আরটিভি/এসআর