বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০২:২৭ পিএম
দশকের পর দশক ধরে ভারতের কৌশলগত দুর্বল স্থান হিসেবে পরিচিত ‘চিকেন’স নেক’ করিডরটি এবার ভারতের কাছে শক্তিশালী করার এক বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি থেকে শুরু হয়ে রাঙাপানি পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডরের নিচ দিয়ে ভূগর্ভস্থ রেললাইন বসানো হবে। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব মঙ্গলবার এ কথা জানান।
চিকেন’স নেক হলো ভারতের মূল ভূখণ্ড ও উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর একমাত্র স্থল সংযোগ পথ। এখানে জাতীয় সড়ক, রেলপথ, জ্বালানি সরবরাহ লাইন ও সেনাবাহিনীর রসদ পরিবহনের পথ রয়েছে। এই করিডরের চারপাশে রয়েছে বাংলাদেশের সীমান্ত, নেপাল ও চীনের চুম্বি ভ্যালি। ফলে, সংকট বা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই পথকে ঘিরে নানা হুমকি থাকে।
বর্তমান রেললাইনগুলো ভূপৃষ্ঠেই অবস্থিত, যা ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন হামলা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই ভারতের ভূগর্ভস্থ রেললাইন নির্মাণের মাধ্যমে এই করিডরকে আকাশপথ ও গোলাবর্ষণ থেকে রক্ষা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রেললাইনগুলো ২০ থেকে ২৪ মিটার গভীরে বসানো হবে, যা সুরক্ষিত ও টেকসই হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভূগর্ভস্থ রেলপথ যুদ্ধ কিংবা সংকটের সময় সেনাবাহিনী, জ্বালানি ও সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় সামগ্রী দ্রুত এবং নিরাপদে পরিবহনে সক্ষম করবে। এটি ভারতের টানেল নির্মাণ প্রযুক্তির উন্নত ক্ষমতা এবং দ্রুত কৌশলগত অবকাঠামো বাস্তবায়নের দিকেও ইঙ্গিত করে।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এ উদ্যোগকে ‘দীর্ঘদিনের কৌশলগত দুর্বলতা দূর করার’ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে বর্তমানে চীনের আগ্রাসী অবকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি, এই ভূগর্ভস্থ রেললাইন ভারতের জন্য অতীব প্রয়োজনীয় করে তুলেছে।
ভারত শুধু রেল অবকাঠামো নয়, এই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতিও বৃদ্ধি করছে। নতুন সেনাঘাঁটি স্থাপন ও পুরানো বিমানঘাঁটিগুলো পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করার কাজ চলছে। গত বছর রেলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাও সফল হয়েছে, যা এই ভূখণ্ডে কৌশলগত সক্ষমতা বাড়িয়েছে।
সুতরাং, শিলিগুড়ির চিকেন’স নেকের নিচ দিয়ে ভূগর্ভস্থ রেললাইন নির্মাণ কোনো সাধারণ প্রকল্প নয়; এটি ভারতের উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে সংযোগ সুরক্ষিত করার, দ্বিপাক্ষিক হুমকি মোকাবেলা করার এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত নিরাপত্তা বাড়ানোর অন্যতম প্রধান পদক্ষেপ।
আরটিভি/এসকে