শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৭:৩৩ পিএম
নয় তলা থেকে লাফ দিয়ে তিন কিশোরী বোনের আত্মহত্যার ঘটনায় গাজিয়াবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। নিহত তিন বোন নিশিকা (১৬), প্রাচী (১৪) ও পাখি (১২) কোরিয়ান সংস্কৃতি ও ড্রামার প্রতি এতটাই আকৃষ্ট ছিল যে, তারা নিজেদের ভারতীয় পরিচয়ের বদলে ‘কোরিয়ান’ পরিচয়ে গর্ব করত। তারা নিজেদের বিদেশি নাম যেমন মারিয়া, আলিজা ও সিন্ডি বেছে নিয়েছিল।
তদন্তকারী পুলিশ জানায়, বোনদের বাবা চেতন কুমার পেশায় স্টকব্রোকার এবং প্রায় ২ কোটি রুপি ঋণে জর্জরিত ছিলেন। বিদ্যুতের বিল পরিশোধে অসুবিধার কারণে তিনি মেয়েদের দুটি মোবাইল ফোন বিক্রি করে দেন। অভিযোগ, মেয়েরা কোরিয়ান ড্রামা, কে-পপ ও অনলাইন গেমে আসক্ত ছিল, তাই মোবাইল ফোন তারা কেড়ে নিয়েছিলেন।
আত্মহত্যার রাতেও তারা তাদের মায়ের ফোন ব্যবহার করতে চেয়েছিল, কিন্তু প্রিয় কোরিয়ান অ্যাপগুলো সেখানে না থাকায় তারা হতাশ হয়ে পড়েছিল। ফরেনসিক রিপোর্টে দেখা গেছে, তারা সেই রাতে অনলাইনে কোরিয়ান বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়েই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।
তদন্তে আরও প্রকাশ হয়েছে, চেতন কুমারের তিন স্ত্রী সুজাতা, হিনা ও টিনা আপন বোন। নিশিকা বড় বোন সুজাতার মেয়ে, আর প্রাচী ও পাখি ছিলেন মেজো বোন হিনার সন্তান। পুলিশ জানিয়েছে, মেয়েদের মায়েদের চেয়ে বাবার প্রতি বেশি আবেগ ছিল। উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে তারা বারবার বাবার নাম উল্লেখ করেছে, কিন্তু মায়েদের নাম কোথাও নেই।
আরেকটি রহস্যজনক তথ্য হলো, ২০১৫ সালে চেতন কুমারের এক লিভ ইন পার্টনারও একইভাবে ছাদ থেকে পড়ে মারা গিয়েছিল। সে সময় পুলিশ এটিকে আত্মহত্যা বলে বিবেচনা করলেও, এখন সেই মামলার পুনঃতদন্ত শুরু হয়েছে।
সাইবার ক্রাইম টিম মোবাইল ফোনগুলো উদ্ধার করতে কাজ করছে। আইএমইআই নম্বর অনুসারে ফোনের ক্রেতাদের খোঁজ চলছে, যাতে মেয়েদের মোবাইল থেকে মুছে ফেলা তথ্য উদ্ধার করা যায়। এই ঘটনাটি কেবল তিন কিশোরীর আত্মহত্যার না, বরং পরিবারের গভীর গোপন রহস্য উন্মোচনের দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
আরটিভি/এসকে