শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৯:৫৭ এএম
কানাডার পশ্চিমাঞ্চলের প্রত্যন্ত জনপদ এ ভয়াবহ স্কুল বন্দুক হামলায় হামলাকারীসহ মোট ৯ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির ফেডারেল পুলিশ সংস্থা আরসিএমপি জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ১৮ বছর বয়সী জেসি ভ্যান রুটসেলার হামলার আগে নিজের মা ও সৎভাইকে হত্যা করেন এবং পরে স্কুলে গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন। খবর খবর সিএনএন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) আরসিএমপি জানায়, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকালে এই হামলার ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে মৃতের সংখ্যা ১০ বলা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৯ জন নিশ্চিত করা হয়, যার মধ্যে হামলাকারী নিজেও অন্তর্ভুক্ত।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ভ্যান রুটসেলার নিজ বাড়িতে ৩৯ বছর বয়সী মা ও ১১ বছর বয়সী সৎভাইকে গুলি করে হত্যা করেন। এরপর তিনি নিজের সাবেক স্কুলে গিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালান।
স্কুলে হামলায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী এক নারী শিক্ষক, তিনজন ১২ বছর বয়সী ছাত্রী এবং ১২ ও ১৩ বছর বয়সী দুইজন ছাত্র। ঘটনাস্থল থেকে একটি লং গান ও একটি হ্যান্ডগান উদ্ধার করা হয়েছে।
হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন এখনো গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহতদের একজন ১২ বছর বয়সী শিশু মায়া। মাথা ও গলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে সে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে বলে তার মা সিয়া এডমন্ডস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন।
আরসিএমপি জানায়, প্রথম জরুরি ফোন পাওয়ার দুই মিনিটের মধ্যেই কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে তারা সক্রিয় গুলির মুখে পড়েন এবং তাদের দিকেও গুলি ছোড়া হয়। পরে স্কুলের ভেতরে হামলাকারীকে আত্মহত্যা করা অবস্থায় পাওয়া যায়।
পুলিশের তথ্যমতে, ভ্যান রুটসেলার ওই স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন এবং চার বছর আগে পড়াশোনা ছেড়ে দেন। প্রাদেশিক মানসিক স্বাস্থ্য আইনের আওতায় তাকে একাধিকবার মূল্যায়ন করা হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় আরসিএমপির ডেপুটি কমিশনার ডোয়াইন ম্যাকডোনাল্ড।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, আমরা এই শোক কাটিয়ে উঠব, আমরা এ থেকে শিক্ষা নেব। তিনি ইউরোপ সফর স্থগিত করে সাত দিনের জন্য সব সরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পার্লামেন্টে এক মিনিট নীরবতাও পালন করা হয়।
কানাডায় স্কুলে গুলির ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। ফলে এই হামলা শুধু দেশটিতেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এখনো হামলার পেছনে সুস্পষ্ট কোনো উদ্দেশ্য জানাতে পারেনি পুলিশ।
আরটিভি/এসকে