images

আন্তর্জাতিক / যুক্তরাষ্ট্র

ক্যারিবীয় সাগরে আবারও মার্কিন হামলা, নিহত ৩

শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১২:৩৬ পিএম

ক্যারিবীয় সাগরের নীল জলরাশি আবারও রক্তাক্ত হয়ে উঠল মার্কিন সামরিক বাহিনীর আকস্মিক বিমান হামলায়।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে মোতায়েন করা ইউএস সাউদার্ন কমান্ডের এক বিশেষ অভিযানে একটি নৌযানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। খবর আল জাজিরার। 

পেন্টাগন জানিয়েছে, এই ‘প্রাণঘাতী’ হামলায় নৌযানে থাকা অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। কোনো প্রকার আইনি বিচার বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই মাঝসাগরে এভাবে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে মানুষ হত্যার ঘটনায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বরাবরের মতো এবারও দাবি করা হয়েছে, তারা মাদক পাচারকারী বা ‘মাদক-সন্ত্রাসীদের’ লক্ষ্য করে এই অভিযান চালিয়েছে। সাউদার্ন কমান্ডের প্রকাশিত এক ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, একটি গতিশীল নৌযানকে লক্ষ্য করে আকাশ থেকে নিখুঁতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে।

ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত করার পর মুহূর্তেই নৌকাটি বিশাল আগুনের পিণ্ডে পরিণত হয় এবং সাগরে নিমজ্জিত হয়। যদিও নিহতদের অপরাধের কোনো অকাট্য প্রমাণ বা বিচারিক নথি মার্কিন প্রশাসন জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি, তবুও তারা এই হত্যাকাণ্ডকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করছে।

পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই মাদকবিরোধী অভিযানের নামে মার্কিন বাহিনী এ পর্যন্ত অন্তত ১৩০ জনকে হত্যা করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও আইন বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাগুলোকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। 

তাদের মতে, মাঝসাগরে সন্দেহভাজনদের ওপর বিমান হামলা চালিয়ে মূলত প্রমাণের সুযোগ নষ্ট করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের আইনি প্রক্রিয়ায় সোপর্দ করার বদলে সরাসরি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের পরিপন্থী। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত প্রশান্ত ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে ৩৯টি নৌযানে ৩৭টিরও বেশি এমন হামলা চালিয়েছে।


আরটিভি/এআর