images

আন্তর্জাতিক

ভারতে পাচারের ২৫ বছর পর গ্রামে ফিরলেন রেজাউল

শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১১:৩৫ পিএম

দীর্ঘ ২৫ বছর নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে নিজ গ্রামে ফিরেছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বাদিয়ারছড়া গ্রামের মো. রেজাউল ইসলাম। আড়াই দশক আগে হারিয়ে যাওয়া টগবগে যুবক রেজাউল যখন প্রৌঢ়ত্ব ছুঁইছুঁই অবস্থায় বাড়ির মাটিতে পা রাখেন, তখন পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বাদিয়ারছড়া গ্রামের মো. কুদ্দুস মিয়ার ছেলে রেজাউল দেশে ফেরেন। তাকে একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন ও উৎসুক জনতা। দীর্ঘদিন পর হারিয়ে যাওয়া স্বজনকে ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। আনন্দ আর আবেগে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয় পুরো গ্রামে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে হঠাৎ করেই নিখোঁজ হন রেজাউল। পরিবারের পক্ষ থেকে বহু খোঁজাখুঁজি করা হলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবার প্রায় আশা ছেড়েই দিয়েছিল। অবশেষে ২৫ বছর পর তার প্রত্যাবর্তনে স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে।

রেজাউলের দাবি, তাকে ফুসলিয়ে সীমান্ত পার করে ভারতে পাচার করা হয়। সেখানে একটি দুর্গম এলাকায় গরুর খামারে বন্দি করে রাখা হয়। খামারে তাকে অমানবিক পরিশ্রম করানো হলেও কোনো পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি। বিনিময়ে শুধু তিন বেলা খাবার দেওয়া হতো। পালানোর সুযোগ না দিতে কড়া পাহারায় রাখা হতো তাকে। কার্যত দাসের মতো জীবন কাটাতে বাধ্য হন তিনি।

সম্প্রতি সুযোগ বুঝে খামার থেকে পালিয়ে সীমান্ত এলাকায় পৌঁছান রেজাউল। সেখানে তিনি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী  বিএসএফএর সদস্যদের কাছে নিজের করুণ কাহিনি তুলে ধরেন এবং দেশে ফেরার আকুতি জানান।

রেজাউলের ভাষ্য অনুযায়ী, পাসপোর্ট-ভিসা না থাকায় প্রথমে আইনি জটিলতার কথা জানানো হলেও তার দীর্ঘ বন্দিদশার কাহিনি শুনে মানবিক আচরণ করেন বিএসএফ সদস্যরা। তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন সাজিয়ে এবং কিছু অর্থ দিয়ে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে প্রবেশের ব্যবস্থা করে দেন বলে দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় মানবাধিকারকর্মীরা সীমান্তপথে মানবপাচার রোধে কঠোর নজরদারি ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও রেজাউলের পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আরটিভি/এসকে