বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১০:২০ এএম
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়া এর বাজাউর জেলায় একটি সেনা-পুলিশ যৌথ নিরাপত্তা চৌকিতে ভয়াবহ গাড়িবোমা হামলায় ১১ জন নিরাপত্তাকর্মীসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও সাতজন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আন্তঃবিভাগ জনসংযোগ দপ্তর আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি চৌকিটির সীমানা প্রাচীরে ধাক্কা দিলে তা বিস্ফোরিত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১১ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। বিস্ফোরণের প্রভাবে পাশের বসতবাড়িগুলোরও ক্ষয়ক্ষতি হয়। এক কিশোরী নিহত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
বিবৃতিতে হামলার দায় ভারতের মদতপুষ্ট ‘ফিৎনা আল খারিজি’ গোষ্ঠীর ওপর চাপানো হয়েছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিষিদ্ধ সংগঠন টিটিপিকে ‘ফিৎনা আল খারিজি’ নামে উল্লেখ করে থাকে। হামলার পর পালানোর সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ওই গোষ্ঠীর ১২ সদস্য নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে আইএসপিআর।
উল্লেখ্য, খাইবার পাখতুনখোয়া দীর্ঘদিন ধরেই টিটিপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। একইভাবে পাকিস্তানের আরেক অস্থির প্রদেশ বেলুচিস্তান এ সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বিএলএ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই দুই প্রদেশে সন্ত্রাসী তৎপরতা ও হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
২০২১ সাল থেকে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার প্রবণতা বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে ২০২৪ সালকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ বছর হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। গত এক দশকের তুলনায় ২০২৪ সালে দেশটিতে সন্ত্রাসী হামলার হার প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিভিন্ন নিরাপত্তা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
এ হামলার পর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সূত্র : ডন
আরটিভি/এসকে