images

আন্তর্জাতিক / যুক্তরাজ্য

দ্বৈত নাগরিকদের কড়া বার্তা দিল যুক্তরাজ্য

বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৫:২১ পিএম

যুক্তরাজ্য সরকার দ্বৈত নাগরিকদের জন্য তাদের সীমান্ত প্রবেশের নিয়মে আমূল পরিবর্তন এনে এক কঠোর বার্তা দিয়েছে।

আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন নীতি অনুযায়ী, যেসব ব্রিটিশ নাগরিকের অন্য কোনো দেশের পাসপোর্ট রয়েছে, তারা এখন থেকে আর সেই বিদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবেন না। এতদিন পর্যন্ত দ্বৈত নাগরিকরা অনেক ক্ষেত্রে ব্রিটিশ পাসপোর্ট ছাড়াই তাদের অন্য পাসপোর্ট দিয়ে অনায়াসে যাতায়াত করতে পারতেন, কিন্তু নতুন ডিজিটাল বর্ডার ব্যবস্থার কারণে সেই সুযোগ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। 

সরকারের এই নতুন ‘কড়া’ বার্তার মূল কারণ হলো নতুন প্রবর্তিত ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথোরাইজেশন (ইটিএ) ব্যবস্থা। ডিজিটাল এই ভ্রমণ পারমিটটি মূলত বিদেশি পর্যটকদের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যা ব্রিটিশ নাগরিকরা পাওয়ার যোগ্য নন। ফলে কোনো দ্বৈত নাগরিক যদি তার বিদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বিমানবন্দরে উপস্থিত হন, তবে এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষ তার নাগরিকত্ব যাচাই করতে পারবে না। এ কারণেই সরকার স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, ২৫ ফেব্রুয়ারির পর থেকে ফ্লাইটে উঠতে হলে দ্বৈত নাগরিকদের কাছে অবশ্যই তিনটি নথির যেকোনো একটি থাকতে হবে: একটি বৈধ ব্রিটিশ পাসপোর্ট, একটি আইরিশ পাসপোর্ট, অথবা তাদের বিদেশি পাসপোর্টে লাগানো বিশেষ ‘রাইট অব অ্যাবোড’ সার্টিফিকেট।

আরও পড়ুন
Web-Image

আল-আকসা মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি পুলিশ

এই নিয়মটি কার্যকর করার সময়সীমা অত্যন্ত কাছে চলে আসায় বিশ্বজুড়ে ব্রিটিশ দূতাবাস ও পাসপোর্ট অফিসগুলোতে ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে যারা বছরের পর বছর ধরে বিদেশে বসবাস করছেন এবং ব্রিটিশ পাসপোর্ট নবায়ন করেননি, তারা এখন বিপাকে পড়েছেন। একটি নতুন ব্রিটিশ পাসপোর্ট পেতে বর্তমানে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগছে এবং এর জন্য ৯৪ দশমিক ৫০ পাউন্ড ফি গুনতে হচ্ছে। 

অন্যদিকে, যারা পাসপোর্টের বদলে ‘রাইট অব অ্যাবোড’ সার্টিফিকেট নিতে চান, তাদের জন্য খরচ আরও বেশি—প্রায় ৫৮৯ পাউন্ড। 

মানবাধিকার কর্মী ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তারা বলছেন, এই নতুন নিয়মের কথা সাধারণ মানুষকে যথাযথভাবে জানানো হয়নি। বিশেষ করে বিদেশে জন্ম নেওয়া শিশুরা, যাদের কাছে এখনো ব্রিটিশ পাসপোর্ট নেই, তাদের পরিবারগুলো এখন বিশাল আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, যারা ২৫ ফেব্রুয়ারির পর সঠিক নথি ছাড়া ভ্রমণে বের হবেন, তাদের হয়তো বিমানবন্দর থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তবে ব্রিটিশ সরকারের দাবি, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মতো উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আরটিভি/এআর