শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১২:৫৯ পিএম
বকেয়া পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় ভারতীয় বেসরকারি বিমান সংস্থা স্পাইসজেটের ওপর বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। দীর্ঘ সময় ধরে বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও ফি পরিশোধ না করায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর ফলে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে স্পাইসজেটের বেশ কিছু রুটের ফ্লাইটের সময় ও দূরত্ব যেমন বেড়েছে, তেমনি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জ্বালানি খরচ ও পরিচালন ব্যয়।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশের আকাশপথ ব্যবহারের বিনিময়ে স্পাইসজেটের কাছে একটি বড় অঙ্কের ফি পাওনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী কোনো দেশের আকাশসীমা দিয়ে উড়ে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ‘ওভারফ্লাইট চার্জ’ প্রদান করতে হয়।
স্পাইসজেট এই বকেয়া মেটাতে বারবার কর্ণপাত না করায় বাধ্য হয়েই তাদের জন্য বাংলাদেশের আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংস্থাটির পূর্বমুখী অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটগুলো এখন চরম বিপাকে পড়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশের এই নিষেধাজ্ঞার সরাসরি প্রভাব পড়েছে কলকাতা থেকে গুয়াহাটি ও ইম্ফলগামী ফ্লাইটগুলোর ওপর।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম 'ফ্লাইটরাডার২৪'–এর তথ্যানুযায়ী, স্পাইসজেটের বিমানগুলো এখন বাংলাদেশের আকাশসীমা এড়িয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে বিকল্প করিডোর ব্যবহার করছে। সাধারণত কলকাতা থেকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের আকাশপথ ব্যবহার করলে সময় ও জ্বালানি উভয়ই সাশ্রয় হয়। এখন ঘুরে যেতে হওয়ায় প্রতিটি ফ্লাইটে আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে।
আর্থিক সংকটে জর্জরিত স্পাইসজেটের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা নতুন এক মরণফাঁদ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর প্রান্তিকের হিসাব অনুযায়ী, সংস্থাটি ইতিমধ্যে ২৬৯ দশমিক ২৭ কোটি রুপি নিট লোকসান গুনেছে। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ পথ ঘুরে ফ্লাইট পরিচালনা করায় অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ তাদের লোকসানের বোঝাকে আরও ভারী করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত স্বল্প দূরত্বের এই পূর্বাঞ্চলীয় রুটে স্বাভাবিক ফ্লাইট পরিচালনা করা স্পাইসজেটের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরটিভি/এআর