শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৩:২১ পিএম
পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচিতে পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিনেই এক শোকাবহ ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সেহরির সময় সোলজারবাজার এলাকার একটি তিনতলা আবাসিক ভবনে শক্তিশালী বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও অন্তত ১৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। বিস্ফোরণটি এতটাই প্রচণ্ড ছিল যে মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ভবনটি ধসে পড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
সিন্ধ প্রাদেশিক দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের করাচি শাখার প্রধান হাসান খান আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপিকে জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে যখন ভবনের বাসিন্দারা সেহরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হঠাৎ বিকট শব্দে এলাকা কেঁপে ওঠে এবং ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় চারপাশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে এই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়েছে। তবে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সিন্ধ প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন।
উদ্ধারকর্মীরা দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে হতাহতদের উদ্ধার করেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে কারণ উদ্ধার অভিযান চলাকালীন অনেকের অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটজনক।
করাচিতে এই ধরনের ভবন ধসের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত জুলাই মাসে শহরের উপশহর লিয়ারিতে একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের জেরে ৫ তলা ভবন ধসে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
বারবার এমন দুর্ঘটনায় শহরের ভবনগুলোর নির্মাণশৈলী ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নগর প্রশাসন ইতিমধ্যে করাচির প্রায় ৬০০টি ভবনকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে তালিকাভুক্ত করেছে। কর্তৃপক্ষের মতে, এই ভবনগুলো অত্যন্ত দুর্বলভাবে নির্মিত এবং যে কোনো সময় এগুলো বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
আরটিভি/এআর