বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০২:৩৬ পিএম
কারিগরি ত্রুটি ও একাধিক দুর্ঘটনার ধারাবাহিকতায় ভারতের দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজস এমকে-১ যুদ্ধবিমানকে বড় আকারের মহড়া ‘বায়ু শক্তি’ থেকে আপাতত বাদ রাখা হতে পারে। ভারতীয় বিমান বাহিনী (আইএএফ) আয়োজিত এই মহড়ার ‘ফুল ড্রেস রিহার্সাল’এ তেজস অংশ নেয়নি বলে জানিয়েছে সূত্র।
হিন্দুস্তান টাইমসের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজস্থানের জয়সালমেরের জেলার পোখরান এলাকায় অনুষ্ঠিত রিহার্সালে তেজস এমকে-১ অনুপস্থিত ছিল। ফলে ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় মূল মহড়াতেও বিমানটি অংশ নাও নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইএএফের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্রের দাবি, ৭ ফেব্রুয়ারির একটি কারিগরি ঘটনার পর পুরো তেজস বহরের ওপর নিরাপত্তা যাচাই (সেফটি চেক) চালাচ্ছে আইএএফ। সে কারণেই মহড়া থেকে সাময়িকভাবে বিমানটি বাদ পড়তে পারে। আইএএফ ২০১৬ সালের জুলাইয়ে প্রথম তেজস এমকে-১ বহরে যুক্ত করে এবং বর্তমানে দুটি স্কোয়াড্রন পরিচালনা করছে প্রতিটিতে সাধারণত ১৬ থেকে ১৮টি যুদ্ধবিমান থাকে।
এর আগে আইএএফ জানায়, এবারের ‘বায়ু শক্তি’ মহড়ায় মোট ৭৭টি যুদ্ধবিমান, ৪৩টি হেলিকপ্টার, আটটি পরিবহন বিমান, রিমোটলি পাইলটেড এয়ারক্রাফট (আরপিএ), কাউন্টার আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম এবং ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য গাইডেড অস্ত্র ব্যবহৃত হবে। তেজস ছাড়াও রাফায়েল, জাগুয়ার, মিরাজ–২০০০, সুখোই–৩০ এমকেআই, মিগ–২৯, হক, সি–১৩০জে, সি–২৯৫, সি–১৭, চেতক, এএলএইচ এমকে–৪, মি–১৭ আইভি, এলসিএইচ, অ্যাপাচি ও চিনুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এইচএএল এক বিবৃতিতে জানায়, তেজস এমকে-১ সম্প্রতি ভূমিতে অবস্থানকালে একটি সামান্য কারিগরি সমস্যার মুখে পড়ে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। গণমাধ্যমে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর নাকচ করে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এটি ছিল ভূমিতে ঘটে যাওয়া ছোটখাটো সমস্যা কোনো বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটেনি।

তবে এর আগে গত বছরের নভেম্বরে দুবাই এয়ারশোতে প্রদর্শনী উড্ডয়নের সময় একটি তেজস এমকে-১ বিধ্বস্ত হয়; ওই ঘটনায় পাইলট নিহত হন। সেটি ছিল এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট এই যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় বড় দুর্ঘটনা। এছাড়া ২০২৪ সালের মার্চে রাজস্থানের জয়সালমেরের কাছে ত্রি-বাহিনী মহড়ায় অংশ নেওয়ার কিছুক্ষণ পর আরেকটি তেজস বিধ্বস্ত হলেও পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন।
সবশেষ এই পরিস্থিতি এমন সময় সামনে এলো, যখন আইএএফ তেজসের উন্নত সংস্করণ এলসিএ এমকে-১এ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আইএএফ এখন পর্যন্ত মোট ১৮০টি এমকে-১এ কেনার জন্য দুটি চুক্তি করেছে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৮৩টি এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৯৭টি বিমানের জন্য যার সম্মিলিত মূল্য প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি রুপি। তবে পাঁচ বছর আগে অর্ডার দেওয়া এসব বিমানের একটিও এখনো সরবরাহ হয়নি।
আরটিভি/এসকে