images

আন্তর্জাতিক

ইরানে কতদিন অভিযান চলবে, জানালেন ট্রাম্প

সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬ , ০৮:৫২ এএম

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযান আনুমানিক চার সপ্তাহ বা তার কম সময়ের মধ্যে শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

রোববার (১ মার্চ) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান একটি বড় ও শক্তিশালী দেশ হওয়ায় পরিকল্পনা অনুযায়ী এই অভিযানে সাধারণত চার সপ্তাহের মতো সময় লাগতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অভিযান শেষ হবে।

এর আগে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় সতর্ক করে বলেন, ইরানে সামরিক অভিযান চলমান রয়েছে এবং ওয়াশিংটনের সব লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে। তার ভাষায়, সামরিক অভিযান সম্পূর্ণ জোরে চলবে এবং সব লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত থামবে না।

এদিকে একই দিন সকালে মার্কিন সাময়িকী দ্য আটলান্টিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের নেতারা তার সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহী এবং তিনিও আলোচনায় রাজি হয়েছেন। মার-এ-লাগো রিসোর্ট থেকে ফোনে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তারা কথা বলতে চায়, আমিও প্রস্তুত। তারা আগে করলে ভালো হতো, এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।

আলোচনা কবে শুরু হবে এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প নির্দিষ্ট সময় জানাতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় যুক্ত অনেক ইরানি কর্মকর্তা এখন আর জীবিত নেই, যা তিনি একটি বড় আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন।

এদিকে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ইরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রস্তুত আছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, খামেনি-পরবর্তী নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছে। 

অন্যদিকে ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদিকে জানিয়েছেন যে, তেহরান উত্তেজনা প্রশমনে যেকোনো উদ্যোগে প্রস্তুত। ওমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছিল।

পরমাণু ইস্যুতে চলমান পরোক্ষ আলোচনার মধ্যেই গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ইসরাইল ইরানে হামলা শুরু করে, পরে এতে যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। হামলার সময় তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

হামলার জবাবে ইরান ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এতে ইসরাইল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরবে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

গত দুই দিন ধরে চলমান তীব্র সংঘর্ষে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। রোববার(১ মার্চ) সকাল পর্যন্ত ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যে জানা যায়, হামলায় অন্তত ২০১ জন নিহত এবং ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ একাধিক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়েছেন। এছাড়া ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান স্টাফ মেজর জেনারেল আবদুলরহিম মুসাভি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজ নাসিরজাদেহ এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তার নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

আরও পড়ুন
iran

ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ বেঁচে আছেন: উপদেষ্টা 

অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, চলমান সংঘর্ষে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ইসরাইলের বেইত শেমেশ শহরে অন্তত নয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত উত্তপ্ত এবং হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরটিভি/এসকে