বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬ , ০৯:২৯ এএম
তেহরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তার ছেলে মোজতবা হোসেইনি খামেনিকে নির্বাচিত করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ইরানি টিভি নেটওয়ার্কের বরাতে ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইল এ তথ্য জানায়।
বিশেষজ্ঞ পরিষদের সিদ্ধান্ত
খবরে বলা হয়, ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ ‘বিপ্লবী গার্ডের চাপের মুখে’ ৫৬ বছর বয়সী মোজতবাকে এই পদে নির্বাচিত করেছে। যদিও দীর্ঘদিন ধরেই তাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছিল, তবে বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, পিতা-পুত্রের উত্তরাধিকার ইরানের শিয়া ধর্মীয় কাঠামোতে ইতিবাচকভাবে দেখা হয় না।
জানা গেছে, খামেনি নিজেও পূর্বে সম্ভাব্য উত্তরসূরীদের তালিকায় মোজতবার নাম অন্তর্ভুক্ত করেননি।
আইআরজিসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা
মোজতবা খামেনি ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্য পরিচিত। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তিনি সশস্ত্র বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন। যদিও তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন না, তবে পর্দার আড়ালে তার যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
পরিবার ও ব্যক্তিজীবন
মোজতবা খামেনি জাহরা হাদ্দাদ-আদেলের সঙ্গে বিবাহিত ছিলেন। তিনি ইরানের সাবেক সংসদ চেয়ারম্যান গোলাম-আলী হাদ্দাদ-আদেল-এর কন্যা। ২০০৪ সালে তাদের বিয়ে হয়। খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় জাহরা নিহত হয়েছেন। দম্পতির তিন সন্তান রয়েছে, তবে তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে নেই। হামলায় খামেনি পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য নিহত হন বলেও জানা গেছে।
সম্পদ ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র মোজতবা খামেনির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তিনি বৈশ্বিক সম্পদ ও বিনিয়োগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ প্রকাশ্যে জানা না গেলেও, তাকে একজন কোটিপতি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
যুক্তরাজ্যে বিপুল বিনিয়োগ নিয়ে সমালোচনা করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ইউকের জ্যেষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা বেন কাউডক। তার ভাষায়, ইরানের রাজনৈতিক নেতাদের ঘনিষ্ঠরা যুক্তরাজ্যে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছেন।
উত্তেজনাপূর্ণ সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মোজতবা খামেনির এই দায়িত্ব গ্রহণকে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তার নেতৃত্ব ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈদেশিক নীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
আরটিভি/এসকে