বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬ , ০৬:৫৮ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পূর্বনির্ধারিত রাষ্ট্রীয় বিদায় ও শোক অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। কথা ছিল বুধবার রাত থেকেই তিন দিনব্যাপী এই শোক ও স্মরণ অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার, যার জন্য তেহরানে ব্যাপক প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে এসে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে এই কর্মসূচি সাময়িকভাবে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের যে বিশাল প্রাঙ্গণে শোক সভার আয়োজন করা হয়েছিল, সেখানে লজিস্টিক বা ব্যবস্থাপনাগত কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। এছাড়া ইরানের বিভিন্ন দূরবর্তী প্রদেশ থেকে লাখ লাখ সাধারণ মানুষ তাদের নেতার শেষ বিদায়ে অংশ নেওয়ার আকুতি জানিয়েছেন। এই বিশাল জনস্রোত সামাল দেওয়ার মতো প্রস্তুতি এবং আয়োজনের পরিধি আরও বৃদ্ধি করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেই আয়োজকরা আপাতত অনুষ্ঠান স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আরও পড়ুন
এর আগে গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তেহরানে নিজ কার্যালয়ে এক বৈঠকে মিলিত হওয়ার সময় মার্কিন ও ইসরায়েলি নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তার এই আকস্মিক ও বেদনাদায়ক মৃত্যুর পর ইরান সরকার দেশজুড়ে ৪০ দিনের দীর্ঘ রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবিতে দেখা গেছে, তেহরানের প্রধান সড়ক ও ময়দানগুলো খামেনির স্মরণে কালো ব্যানার ও শোকবার্তায় ছেয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ তাদের প্রয়াত নেতার সম্মানে বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট স্মরণ সভা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সরকারি এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বুধবার স্থানীয় সময় রাত ১০টায় স্মরণ অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বিশাল জনসমাগমের কথা বিবেচনা করে আরও বড় পরিসরে অবকাঠামো তৈরির কাজ চলছে। তবে এই শোক অনুষ্ঠান আবার কবে নাগাদ অনুষ্ঠিত হতে পারে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো তারিখ বা সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যার প্রতিবাদ ও পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান ইতিমধ্যে তাদের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’ শুরু করেছে। এই অভিযানের আওতায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত ইসরায়েলি স্থাপনা এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।
আরটিভি/এআর