শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ , ১২:০৫ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের রদবদল ঘটিয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব ক্রিস্টি নোয়েমকে পদ থেকে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) হোয়াইট হাউস থেকে নেওয়া এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের খবরটি নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। কয়েক মাস ধরে চলা নানা বিতর্ক ও প্রশাসনিক চাপের মুখে ট্রাম্প তার প্রশাসনের অন্যতম আলোচিত এই মন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন। নোয়েমের স্থলাভিষিক্ত করার জন্য ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যের প্রভাবশালী সিনেটর মার্কওয়েন মুলিনকে মনোনয়ন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় এই পরিবর্তনের কথা জানান। তিনি বলেন, মার্কওয়েন মুলিনকে নতুন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হতে হলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন পেতে হবে।
দক্ষিণ ডাকোটার সাবেক গভর্নর ক্রিস্টি নোয়েম ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হলেও সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত ঘটনা তার বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্রিস্টি নোয়েমের বরখাস্ত হওয়ার পেছনে মূলত দুটি বড় কারণকে দায়ী করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রথমত, মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপলিস শহরে ফেডারেল কর্মকর্তাদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। দ্বিতীয়ত, ২২০ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল অঙ্কের বিজ্ঞাপন চুক্তি নিয়ে দুর্নীতির প্রশ্ন ওঠার পর থেকেই নোয়েমের ওপর চাপ বাড়তে থাকে। ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও অভিবাসন ইস্যুতে তার কিছু বিতর্কিত মন্তব্য ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা হোয়াইট হাউসের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
নতুন মনোনীত সচিব মার্কওয়েন মুলিন একজন অভিজ্ঞ সিনেটর এবং তার অভিবাসন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে দীর্ঘদিনের কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার এই মনোনয়ন সিনেটে কতটা সহজে পাশ হবে, তা নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে জাতীয় নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে এবং বিতর্ক এড়িয়ে নতুন গতি আনতে মুলিনকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে মেক্সিকো সীমান্ত এবং অভ্যন্তরীণ উগ্রবাদ দমনে মুলিনের ভূমিকা কী হবে, সেদিকেই এখন সবার নজর।
আরটিভি/এআর