মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬ , ০৫:১৪ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত আক্রমণের মুখে বিশ্ব জ্বালানি বাজার অচল করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) জানিয়ে দিয়েছে, তেহরানের ওপর সামরিক চাপ ও হামলা অব্যাহত থাকলে এই অঞ্চল থেকে বিশ্ববাজারে ‘এক লিটার তেলও’ রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত আইআরজিসি-র এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধের সমাপ্তি কখন এবং কীভাবে হবে তা কেবল তারাই নির্ধারণ করবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ ‘শিগগির’ শেষ করার যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন, তার জবাবে রেভল্যুশনারি গার্ডস বলেছে যে যুদ্ধের সমীকরণ এখন তাদের হাতে এবং মার্কিন বাহিনী এককভাবে এই সংঘাত থামাতে পারবে না। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের বিভিন্ন তেলের ডিপোতে হামলার প্রতিবাদে তেহরান এখন পুরো অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা অচল করে দেওয়ার কৌশল বেছে নিয়েছে।
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে আরও বলে, তাদের নিজস্ব জ্বালানি খাত বা তেলের খনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা চুপ করে বসে থাকবে না। ‘তেল বাদে কোনো বাণিজ্য নয়’—এই নীতিতে অটল থেকে তারা পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানি বন্ধের সক্ষমতা রাখে বলে দাবি করেছে। এর ফলে কেবল সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোই নয়, বরং এশীয় ও ইউরোপীয় দেশগুলোও চরম জ্বালানি সংকটের মুখে পড়বে।
ইরানের এই চরম হুঁশিয়ারির বিপরীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক কঠোর পোস্ট দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে তেলের প্রবাহ বন্ধের চেষ্টা করে, তবে তাদের ওপর ‘মৃত্যু, আগুন ও ধ্বংসযজ্ঞ’ নেমে আসবে।
ট্রাম্পের মতে, এমন পরিস্থিতিতে ইরানের ওপর ২০ গুণ বেশি শক্তিশালী হামলা চালানো হবে, যা একটি রাষ্ট্র হিসেবে তাদের পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব করে তুলবে।
আরটিভি/এআর