শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ , ১২:৩৪ পিএম
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান আকাশ ও নৌ যুদ্ধের পর এবার সরাসরি স্থল যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এই লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো আড়াই হাজার মার্কিন মেরিন সেনার একটি শক্তিশালী দল মোতায়েনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জাপানের ওকিনাওয়ায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি থেকে ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের এই সদস্যরা বর্তমানে রণক্ষেত্রের উদ্দেশ্যে যাত্রাপথে রয়েছেন। খবর আল–জাজিরার।
অভিযান পরিচালনার জন্য মেরিন সেনাদের সঙ্গে রয়েছে সর্বাধুনিক উভচর যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’। এই জাহাজটি বিশেষ প্রযুক্তিতে তৈরি, যা সমুদ্র থেকে সরাসরি স্থলভাগে সেনা নামানোর পাশাপাশি আকাশপথেও সহায়তা দিতে সক্ষম। মূলত এই উভচর রণতরি থেকেই মেরিন সেনারা সরাসরি ইরানি উপকূলে বা কৌশলগত অঞ্চলগুলোতে নামবেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এটিই হবে কোনো মার্কিন স্থলবাহিনীর প্রথম সরাসরি রণক্ষেত্রে প্রবেশ।
৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট মার্কিন বাহিনীর অন্যতম চৌকস দল হিসেবে পরিচিত। তারা মূলত দ্রুত সাড়াদানকারী বাহিনী হিসেবে কাজ করে।
পেন্টাগন সূত্র জানিয়েছে, কোনো জরুরি সংকট মোকাবিলা, উদ্ধার অভিযান কিংবা ইরানের কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রয়োজনে এই স্থলসেনাদের ব্যবহার করা হবে। ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ থেকে ড্রোন ও এফ-৩৫বি লাইটনিং-২ যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করতে পারে, যা স্থল অভিযানে থাকা সেনাদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এতদিন কেবল দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানকে দুর্বল করার চেষ্টা চালানো হলেও এখন স্থলসেনা পাঠানোর অর্থ হলো যুদ্ধের তীব্রতা আরও বহুগুণ বাড়তে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এটি স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্র কেবল ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ডস (আইআরজিসি) মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েনের খবরের পর কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানো হলে মার্কিন বাহিনীর জন্য তা হবে এক বিশাল ‘কবরস্থান’। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ কমান্ড ইতিমধ্যে স্থল অভিযানের বিভিন্ন নকশা চূড়ান্ত করেছে বলে জানা গেছে।
আরটিভি/এআর