images

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্প পুতিনের ‘পোষা কুকুর’: ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ , ০২:৩৪ পিএম

ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গেভিন নিউসাম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের 'পোষা কুকুর' বলে কটাক্ষ করেছেন।

গভর্নর নিউসাম সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা ও বিদ্রূপ করে অনলাইনে আলোচনায় এসেছেন। বুধবার (১১ মার্চ) ট্রাম্পের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা নিয়ে বিতর্কের সময় নিউসাম তাকে 'ব্রেইন-ডেড মোরন (বুদ্ধিহীন গাধা), যে শিশুদের ওপর বোমা ফেলে' বলে অভিহিত করেন। 

ধারণা করা হচ্ছে, তিনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বালিকা বিদ্যালয়ে চালানো সেই হামলার কথা বুঝিয়েছেন, যেখানে ১৭৫ জন নিহত হয়েছিল, যাদের বেশিরভাগই শিশু।

নিউ ইয়র্ক টাইমস বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পেন্টাগনের প্রাথমিক তদন্তে স্বীকার করা হয়েছে যে, ভুলবশত ওই বোমা হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

মোজতবা খামেনিকে ধরিয়ে দিতে কোটি ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দিলো যুক্তরাষ্ট্র

গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত চলার পর বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম পুনরায় প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলারে পৌঁছায়। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে সমুদ্রে আটকে থাকা রুশ তেল বিভিন্ন দেশকে কেনার অনুমতি দেওয়া হবে।

ট্রেজারি বিভাগের এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় নিউসামের প্রেস অফিস একটি এআই-জেনারেটেড (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি) পুতিন ট্রাম্পকে কুকুরের মতো গলায় শিকল বেঁধে হাঁটাচ্ছেন এমন একটি ছবি শেয়ার করেছে।

বৃহস্পতিবার রাতে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্ট করেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী ইরানি সরকারের সৃষ্ট হুমকি ও অস্থিরতা মোকাবিলা করার পাশাপাশি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ট্রাম্প চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এই স্বল্পমেয়াদী ব্যবস্থা রুশ সরকারকে উল্লেখযোগ্য কোনো আর্থিক সুবিধা দেবে না।

ইরান যুদ্ধের কারণে গত সোমবার তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছেছিল, যা বৃহস্পতিবার ১০০ ডলারে নেমে আসে। তেলের বাজারের এই অনিশ্চয়তার মূলে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের মোট উত্তোলিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান বর্তমানে এই পথটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে এবং এর মধ্য দিয়ে চলাচলকারী যেকোনো জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছে।

ইতোমধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত রুশ তেল কেনার অনুমতি দিয়েছে। 

পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম কমাতে নিজস্ব মজুত থেকে তেল ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এনার্জি সেক্রেটারি ক্রিস রাইট বুধবার ঘোষণা করেছেন যে, স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে আগামী সপ্তাহ নাগাদ ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়া হবে। সুত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট

আরটিভি/এমএইচজে