মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ , ০৯:৩৬ এএম
দক্ষিণ এশিয়ায় অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে নেপাল প্রথমবারের মতো একজন ট্রান্সজেন্ডার নারী সংসদ সদস্য পেল। ৩৭ বছর বয়সী ভূমিকা শ্রেষ্ঠা অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশটির সংসদে নির্বাচিত হয়েছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) তাকে ফুলের মালা পরিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। নেপাল নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করেছে, তিনি মধ্যপন্থী দল রাষ্ট্রিয় স্বাধীনতা পার্টি (আরএসপি) থেকে মনোনয়নে নির্বাচিত হয়েছেন।
এলজিবিটিকিউ অধিকারকর্মী শ্রেষ্ঠা সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেন, তিনি এই অর্জনে উচ্ছ্বসিত হলেও দায়িত্বের ব্যাপারটি গভীরভাবে অনুভব করছেন। তার ভাষায়, সংবিধানে সম্প্রদায়ের অধিকার স্বীকৃত থাকলেও তা এখনো আইন ও নীতিতে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। তিনি সংসদে এসব বিষয় তুলে ধরার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
৫ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। গত বছরের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের পর এটি ছিল প্রথম জাতীয় নির্বাচন।
এই নির্বাচনে র্যাপার থেকে রাজনীতিক হওয়া বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন আরএসপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়। দলটি ১৬৫টি সরাসরি নির্বাচিত আসনের মধ্যে ১২৫টি এবং অনুপাতিক প্রতিনিধিত্বে আরও ৫৭টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
এদিকে, এলজিবিটিকিউ অধিকার সংগঠন ব্লু ডায়মন্ড সোসাইটির (বিডিএস) সভাপতি উমিশা পান্ডে এই ঘটনাকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যাগুলো আমরা নিজেরাই সবচেয়ে ভালো বুঝি।
দক্ষিণ এশিয়ায় এলজিবিটিকিউ অধিকার রক্ষায় নেপাল তুলনামূলকভাবে অগ্রসর। ২০০৭ সালে বৈষম্য নিষিদ্ধ, ২০১৩ সালে নাগরিকত্বে ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ স্বীকৃতি, ২০১৫ সালে ‘অন্যান্য’ লিঙ্গসহ পাসপোর্ট চালু এবং ২০২৩ সালে আদালতের আদেশে সমলিঙ্গ ও ট্রান্সজেন্ডার দম্পতির বিয়ে নিবন্ধনের অনুমতি এসব পদক্ষেপ এর উদাহরণ।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের পর এই প্রথম কোনো যৌন সংখ্যালঘু প্রতিনিধি সংসদে জায়গা পেলেন। বিডিএসের তথ্যমতে, নেপালে প্রায় ৯ লাখ মানুষ নিজেদের যৌন সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচয় দেন।
আরটিভি/এসকে