মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ , ১১:১৫ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার নতুন এক ধোঁয়াশা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে ইরানের প্রভাবশালী নেতা ও জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানিকে কেন্দ্র করে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ইসরায়েল দাবি করে, তারা এক বিশেষ অভিযানে লারিজানিকে ‘নির্মূল’ করেছে। তবে ইসরায়েলের এই চাঞ্চল্যকর দাবির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লারিজানির ব্যক্তিগত ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে একটি হাতে লেখা নোট পোস্ট করা হলে তার মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হয়।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেন, “আমাকে চিফ অব স্টাফ এই মাত্র জানিয়েছেন, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি এবং বাসিজ বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিকে গত রাতে হত্যা করা হয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজেও এক বার্তায় লারিজানিকে হত্যার দাবি করে বলেন, এই পদক্ষেপের ফলে ইরানিদের জন্য বর্তমান সরকার উৎখাতের সুযোগ তৈরি হবে।
ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, সোমবার বিকেলে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে লারিজানির একটি গোপন আস্তানায় হামলা চালানো হয়, যেখানে তার বেঁচে থাকার কোনো সম্ভাবনা নেই।
ইসরায়েল যখন লারিজানির মৃত্যুর খবর উদযাপন করছে, ঠিক তখনই তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে একটি হাতে লেখা বার্তা পোস্ট করা হয়। ওই নোটে ভারত মহাসাগরে মার্কিন সাবমেরিনের হামলায় নিহত ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’-এর ৮৪ জন নাবিকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। অদ্ভুত বিষয় হলো, দীর্ঘ ওই নোটে লারিজানির নিজের অবস্থা বা ইসরায়েলের দাবির বিষয়ে একটি শব্দও উল্লেখ করা হয়নি।
৬৮ বছর বয়সী আলি লারিজানি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক নীতি ও কূটনীতির মূল হোতা হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে, বিশেষ করে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর, লারিজানি কার্যত ইরানের পর্দার অন্তরালে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে না আসায় লারিজানিই ছিলেন বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী ও দৃশ্যমান নেতা। গত সপ্তাহেও তাকে তেহরানের এক বিশাল সমাবেশে অংশ নিতে দেখা গেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’ জানিয়েছে, লারিজানিকে হত্যার পরিকল্পনা গত রোববার রাতে করা হলেও শেষ মুহূর্তে তা পিছিয়ে সোমবার বিকেলে কার্যকর করা হয়। ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের দাবি, লারিজানি তার ছেলের সাথে একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকা অবস্থায় সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। ইরান সরকার বা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এখন পর্যন্ত লারিজানির মৃত্যু নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করায় পুরো বিষয়টি এক গভীর রহস্যে রূপ নিয়েছে।
আরটিভি/এআর