বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ , ০৯:৩০ পিএম
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সংঘাতের আজ ২০ দিন পার হয়েছে। শত্রুপক্ষের যৌথ আগ্রাসনের জবাবে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে গত দুই সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।
চলমান এই হামলা-পাল্টা হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ইরানের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ও বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র ‘সাউথ পার্স’-এর একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
বুধবার (১৮ মার্চ) ভোরে ইরানের বুশেহর অঞ্চলে অবস্থিত এই কৌশলগত স্থাপনাটিতে ইসরায়েলি বাহিনী আঘাত হানে বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
আধা-সরকারি সংস্থা ফারস নিউজ জানিয়েছে, হামলায় স্থাপনাটিতে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে এবং বর্তমানে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। সাউথ পার্স বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র, যা ইরান ও কাতার যৌথভাবে ব্যবহার করে থাকে।
ইসরায়েলের এই হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে ইরানের সামরিক সূত্রগুলো। এর জবাবে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা এখন এমন সব ‘শত্রু অবকাঠামো’ লক্ষ্যবস্তু করবে যা আগে নিরাপদ মনে করা হতো।
আইআরজিসি এরই মধ্যে সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাঁচটি প্রধান তেল স্থাপনার নিকটবর্তী এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষকে দ্রুত এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।
সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রটি কাতারের ‘নর্থ ফিল্ড’-এর একটি বর্ধিত অংশ হওয়ায় এই হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক বিবৃতিতে বলেন, “ইরানের এই স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলা বর্তমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে একটি বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপ।”
কাতার সতর্ক করেছে, জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা কেবল বিশ্ব অর্থনীতি নয়, বরং এই অঞ্চলের পরিবেশের জন্যও বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে।
আরটিভি/এআর