images

আন্তর্জাতিক / যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক ঘাঁটির ওপর রহস্যময় ড্রোন, আতঙ্কে প্রশাসন

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬ , ০৭:০২ পিএম

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই খোদ যুক্তরাষ্ট্রের হৃদপিণ্ড ওয়াশিংটন ডিসির একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ দুই নীতিনির্ধারক—পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ যে ঘাঁটিতে বসবাস করেন, সেখানে অজ্ঞাত ড্রোন শনাক্ত হওয়ার পর তোলপাড় শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির ‘ফোর্ট লেসলি জে ম্যাকনেয়ার’ ঘাঁটির আকাশে গত ১০ দিনের মধ্যে এক রাতেই একাধিক রহস্যময় ড্রোন উড়তে দেখা গেছে। এই ঘাঁটিটি হোয়াইট হাউস ও ক্যাপিটল হিল থেকে মাত্র ৩.২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই এলাকায় ড্রোন অনুপ্রবেশের পর হোয়াইট হাউসে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ জোরদার করা হয়েছে।

ফোর্ট ম্যাকনেয়ার ঘাঁটিতে ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটি ছাড়াও পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা বসবাস করেন। সম্প্রতি বিদায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েমসহ ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিরাপত্তার খাতিরে এই ঘাঁটিতে স্থানান্তরিত হয়েছেন। তবে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, রাজধানীর অন্যান্য সামরিক ঘাঁটির তুলনায় এখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী নেই।

আরও পড়ুন
1

কুয়েতে তেল শোধনাগারে আবারও ড্রোন হামলা, ভয়াবহ আগুন

ড্রোন শনাক্তের পরপরই কর্মকর্তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেন। যদিও একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই মন্ত্রী এখন পর্যন্ত তাদের বাসভবন ছেড়ে যাননি। তবে যুদ্ধের এই উত্তপ্ত সময়ে ইরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কায় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

শনাক্ত হওয়া ড্রোনগুলো ঠিক কোথা থেকে এসেছিল বা কারা এগুলো পরিচালনা করছিল, তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে এবং তেহরান ইতিপূর্বে মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন সামরিক বাহিনী সম্ভাব্য যে কোনো আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এই ড্রোনগুলো কোনো শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্রের হয়ে থাকে, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য এক বিশাল চপেটাঘাত। বর্তমানে ফোর্ট ম্যাকনেয়ার এবং এর আশপাশের আকাশসীমায় ‘নো ফ্লাই জোন’ কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়েছে।

আরটিভি/এআর