বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬ , ০৯:৩৩ পিএম
ইরানের সামরিক সক্ষমতা এখনো পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হয়নি বলে স্বীকার করেছে পেন্টাগন। বুধবার (১৮ মার্চ) মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এক যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানায়।
পেন্টাগন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ইরানি ভূখণ্ডে ৭ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে মার্কিন বাহিনী, যার মধ্যে রয়েছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ব্যবস্থা এবং নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি।
জেনারেল ড্যান কেইন জানান, ইরান এই যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ সমরাস্ত্র নিয়ে মাঠে নেমেছে। ইরানের ভূগর্ভস্থ এবং কংক্রিটের তৈরি শক্তিশালী সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র ৫ হাজার পাউন্ড (২ হাজার ২৭০ কেজি) ওজনের ‘পেনিট্রেটিভ’ বা বাঙ্কার ব্লাস্টার বোমা ব্যবহার করছে। এই বিশেষায়িত অস্ত্রগুলো গভীর স্তর ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করে বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম।
কেইন আরও বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র তাদের খুঁজে বের করছে, শনাক্ত করছে এবং ধ্বংস করছে। তবে ইরান এখনো কিছু আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বজায় রেখেছে।"
মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধের কৌশলগত পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে জেনারেল কেইন জানান, মার্কিন বাহিনী এখন আরও পূর্বদিকে ইরানি আকাশসীমার গভীরে প্রবেশ করে একমুখী ড্রোনগুলোকে ধ্বংস করছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ইরান এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে ইরানের দ্রুতগামী আক্রমণকারী নৌযানগুলো লক্ষ্য করে হানা দিচ্ছে বিখ্যাত 'এ-১০ ওয়ারথগ' যুদ্ধবিমান। এছাড়া ড্রোন শিকারি হিসেবে এই অভিযানে যোগ দিয়েছে শক্তিশালী এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টার।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে জানিয়ে জেনারেল কেইন আরও বলেন, ইরাকেও ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অবিরাম আঘাত হানা হচ্ছে। পেন্টাগনের এই তৎপরতা মূলত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং নৌবাহিনীকে স্থায়ীভাবে অচল করে দেওয়ার অংশ।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌবাহিনী ধ্বংস করা এবং তেহরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা। তবে যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হতে পারে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে রাজি হননি তিনি।
হেগসেথ বলেন, "আমরা কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে চাই না। আমরা আমাদের লক্ষ্যের দিকে সফলভাবে অগ্রসর হচ্ছি।"
আরটিভি/এআর