রোববার, ২২ মার্চ ২০২৬ , ১০:১২ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান থেকে ইসরায়েল লক্ষ্য করে চার শতাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। রোববার ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ)-এর এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে ৪০০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান। হামলার পরিপ্রেক্ষিতে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইডিএফ জানায়, তাদের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৯২ শতাংশই আকাশেই ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।
এ বিষয়ে আইডিএফের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি বলেন, “ইরান ৪০০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে প্রতিহত করার ক্ষেত্রে আমরা বড় সাফল্য পেয়েছি। আমাদের সফলতার হার প্রায় ৯২ শতাংশ।”
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
এর আগে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে ইসরায়েলে আবারও নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। এ ঘটনায় দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করেছে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস।
রোববার (২২ মার্চ) টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় আইডিএফ জানায়, ইরান থেকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে এবং সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সক্রিয় রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কবার্তাও পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং দাবি করেছে, হামলার নতুন ধাপ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, তারা ইরান থেকে ছোড়া চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৫টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, ইরানের ‘প্রকাশ্য আগ্রাসন’ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোট ৩৪৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১,৭৭৩টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।
ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে ইরানি হামলার পর জেরুজালেম শহরে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়ে সতর্কতা জারির পরপরই এসব বিস্ফোরণ ঘটে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও জোরদার হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আরটিভি/এসকে