সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬ , ১১:১৯ পিএম
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ কম্বোডিয়ার চুনাপাথরের কার্স্ট অঞ্চলে পরিচালিত এক বিস্তৃত জরিপে উঠে এসেছে বিস্ময়কর জীববৈচিত্র্যের চিত্র। আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংস্থা ফনা অ্যান্ড ফ্লোরার নেতৃত্বে এবং দেশটির পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় পরিচালিত এই গবেষণায় এমন কিছু প্রাণীর সন্ধান মিলেছে, যেগুলোর কিছু আগে কখনোই বৈজ্ঞানিকভাবে নথিভুক্ত হয়নি।
পশ্চিমাঞ্চলের বাটামবাং প্রদেশ জেলার ১০টি পাহাড়জুড়ে ৬০টিরও বেশি গুহা ঘুরে দেখেন গবেষকরা। চুনাপাথরের ক্ষয়ে গড়ে ওঠা এই কার্স্ট ভূপ্রকৃতিতে রয়েছে গুহা-ঝর্ণা, সিঙ্কহোল এবং ভূগর্ভস্থ পানিপ্রবাহ— যা বিরল ও অজানা প্রাণীর জন্য আদর্শ আবাসস্থল তৈরি করেছে।
গবেষণায় সবচেয়ে আলোচিত আবিষ্কারগুলোর একটি হলো ট্রিমেরেসুরাস পিট ভাইপার গণের একটি নতুন সাপ। অত্যন্ত বিষধর এই সাপগুলো নাকের পাশে থাকা তাপ-সংবেদনশীল অঙ্গ ব্যবহার করে উষ্ণ রক্তের শিকার শনাক্ত করতে পারে।
এছাড়া গেহাইরা গেকো গণের একটি নতুন গেকো প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি “ব্যাটামবাং লিফ-টোড গেকো” নামে পরিচিত ডিক্সোনিয়াস নক্টিভ্যাগাস প্রজাতিটিও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য— এর শরীরে চিতাবাঘের মতো ক্ষুদ্র দাগ রয়েছে এবং এটি মূলত নিশাচর।
আরেকটি নতুন গেকো প্রজাতি হলো সিরটোড্যাকটাইলাস ক্যাম্পিংপোইএনসিস। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই প্রজাতির চারটি আলাদা জনসংখ্যা পাওয়া গেছে, যা ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার কারণে বিবর্তনের দিক থেকে ভিন্ন হতে পারে। ভবিষ্যতে জিনগত বিশ্লেষণে এগুলো আলাদা প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারে।
এছাড়া পাওয়া গেছে অর্থোমরফা ব্যাটামবাংজিয়েনসিস নামে একটি মিলিপিড, যার উজ্জ্বল লাল-কালো বর্ণ শিকারিদের জন্য সতর্ক সংকেত হিসেবে কাজ করে— এটি বিষাক্ত বা অখাদ্য হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
জরিপে আরও দেখা গেছে বিশ্বের দীর্ঘতম সাপ হিসেবে পরিচিত রেটিকুলেটেড পাইথন।
গাছ থেকে গাছে ভেসে যেতে সক্ষম অর্নেট ফ্লাইং স্নেক,
এবং “হংকং হুইপিং ফ্রগ” নামে পরিচিত এক ধরনের ব্যাঙ, যা ডিম পাড়ার সময় ফেনা তৈরি করে বাসা বানায়।
গবেষকরা বলছেন, কম্বোডিয়ার এই কার্স্ট অঞ্চল জীববৈচিত্র্যের এক অমূল্য ভাণ্ডার। তবে খনন, বন উজাড় ও অন্যান্য মানবিক কর্মকাণ্ডের কারণে এই অনন্য বাস্তুতন্ত্র হুমকির মুখে পড়ছে। তাই দ্রুত কার্যকর সংরক্ষণ উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গবেষণা প্রমাণ করে— পৃথিবীর অনেক অঞ্চল এখনো অজানা প্রাণীর আশ্রয়স্থল হয়ে আছে, যেগুলো সংরক্ষণে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ ও সচেতনতা। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আরটিভি/এমএইচজে