বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬ , ০৫:৫২ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত ২৬তম দিনে গড়িয়েছে। যুদ্ধের শুরুতেই ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সপরিবারে হত্যা করা হলেও, দেশটির ইসলামী শাসনতন্ত্রের অবসান ঘটাতে ব্যর্থ হয়ে একের পর এক শীর্ষ নেতা ও কমান্ডারদের লক্ষ্যবস্তু করছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব।
তবে দমে যাওয়ার পাত্র নয় তেহরানও; ইসরায়েলের অভ্যন্তরে এবং মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে বিধ্বংসী পাল্টা হামলা চালিয়ে শত্রুপক্ষকে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে দেশটি। সেই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ববাজারে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে তারা।
তবে গত কয়েক দিনে ইরানের শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ক্রমাগত আঘাতে ইসরায়েলের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনী কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। ফলে নিজের নাগরিকদের জীবন রক্ষায় এবার ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকদের ভাবনার জগৎ আমূল বদলে যাচ্ছে। কেননা নিজ ভূখণ্ডে আর নিরাপদ বোধ না করায় এবার ইউরোপের দেশ গ্রিসে আস্ত দ্বীপ কেনার এক চাঞ্চল্যকর প্রস্তাব সামনে এসেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম 'হারেৎজ' জানায়, ইহুদি ন্যাশনাল ফান্ডের (জেএনএফ) সহযোগী প্রতিষ্ঠান 'হিমনুতা'র পরিচালনা পর্ষদ সদস্য আব্রি স্টেইনার এই অদ্ভুত প্রস্তাবটি দিয়েছেন। তার মতে, যুদ্ধ বা বড় ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে ইসরায়েলিদের দ্রুত সরিয়ে নিতে গ্রিসের জনশূন্য দ্বীপগুলো ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
গত সপ্তাহে এক সভায় স্টেইনার যুক্তি দেন, গ্রিসে প্রায় ৪০টি বসবাসের উপযোগী জনশূন্য দ্বীপ রয়েছে, যেখানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। ইসরায়েলি দৈনিক 'মারিভ'কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন, "ইরানের কাছে থাকা বিপুল সংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ভয় থেকেই মূলত আমার মাথায় এই দ্বীপ কেনার ধারণাটি আসে।"
উল্লেখ্য, হিমনুতা মূলত ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর গঠিত একটি সংস্থা, যার প্রধান কাজ ছিল পশ্চিম তীরে জমি কেনা। সাধারণত ইসরায়েলের সীমানার ভেতরেই এদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকে। তবে বর্তমান ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র যেভাবে ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে, তাতে খোদ ইহুদি ভূখণ্ডের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে ২০১২ সালেও গ্রিক দ্বীপ লিজ নেওয়ার একটি প্রস্তাব উঠেছিল, কিন্তু সেটি ছিল কেবল নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণের জন্য। এবারই প্রথম সাধারণ নাগরিকদের জন্য ইউরোপের মাটিতে ভূখণ্ড কেনার দাবি উঠলো।
আব্রি স্টেইনারের এই প্রস্তাবটি হিমনুতার পর্ষদ সভায় তোলা হলেও তা অন্য সদস্যদের সমর্থন পায়নি। অধিকাংশ সদস্যই একে ‘অযৌক্তিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের প্রধান যুক্তি হলো, জেএনএফ বা হিমনুতার আইনি এখতিয়ার কেবল ইসরায়েলের ভেতরে জমি কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ। বিদেশে জমি কেনা বা সেখানে অর্থ ব্যয়ের কোনো অনুমতি সংস্থাটির নেই। ফলে আইনি মারপ্যাঁচে প্রস্তাবটি বর্তমানে ঝুলে আছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও এটি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির এক ভয়াবহ রূপ ফুটিয়ে তোলে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে এতটাই আতঙ্ক তৈরি করেছে যে, তারা এখন সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপের দ্বীপে আশ্রয় খোঁজার কথা ভাবছে।
গ্রিস সরকার এই বিষয়ে এখনো নীরব থাকলেও, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো দেশ তাদের দ্বীপ অন্য দেশের নাগরিকদের 'নিরাপদ অঞ্চল' হিসেবে ছেড়ে দেবে কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় রয়েছে।
আরটিভি/এআর