শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬ , ১২:৫৩ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত ২৮তম দিনে গড়িয়েছে। যুদ্ধের প্রথম আঘাতেই ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সপরিবারে হত্যার পর দেশটির ইসলামী শাসনতন্ত্রের অবসান ঘটানোর লক্ষ্য নিয়েছিল ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। তবে সেই পরিকল্পনা সফল না হওয়ায় তারা এখন একের পর এক ইরানি নেতা ও কমান্ডারদের লক্ষ্যবস্তু করে চলেছে। এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই এবার নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জীবনের শেষ মুহূর্তের একটি ছবি প্রকাশ করেছে তেহরান।
পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম 'দ্য ডন' এবং 'আল মায়াদিন ইংলিশ'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান থেকে প্রকাশিত এই ছবিটি খামেনির মৃত্যুর ঠিক আগমুহূর্তে তোলা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ছবিতে তাকে তেহরানে তার নিজ কার্যালয়ে অত্যন্ত নিবিষ্ট চিত্তে দাপ্তরিক কাজ করতে দেখা যাচ্ছে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরের দিকে আয়াতুল্লাহ খামেনির বাসভবন ও প্রাসাদ লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবিতে দেখা যায়, এক সময়ের সুরক্ষিত সেই প্রাসাদটি এখন কেবলই এক বিশাল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইরানি সংবাদ সংস্থা 'ফার্স নিউজ এজেন্সি' সে সময় জানিয়েছিল, খামেনি তার অফিসে অর্পিত দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারান।Tehran publishes the last picture taken of Islamic Revolution leader Ayatollah Sayyed Ali Khamenei at his office in the Iranian capital before his martyrdom. pic.twitter.com/sPm3fpZCKb
— Al Mayadeen English (@MayadeenEnglish) March 27, 2026
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম 'চ্যানেল-১২' জানিয়েছে, হামলার পর পরই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে খামেনির মরদেহের ছবি দেখানো হয়েছে। ওই হামলায় কেবল সর্বোচ্চ নেতাই নন, তার মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাইও নিহত হয়েছেন। খামেনির মরদেহ তার প্রাসাদের কম্পাউন্ড থেকেই ইরানি উদ্ধারকারীরা উদ্ধার করেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসলেও দমে যায়নি তেহরান। বরং শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে বিধ্বংসী পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। নজিরবিহীন এই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীও।
আরটিভি/এআর