রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬ , ০৯:৫৯ এএম
ইরানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী ইসলামী বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত আমেরিকান ও ইসরায়েলি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করে সেখানে যেকোনো সময় প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছে।
জানমালের ক্ষতি এড়াতে শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীসহ সবাইকে সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পাসগুলো থেকে অন্তত এক কিলোমিটার দূরে অবস্থান করার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ধ্বংসাত্মক হামলার পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে মার্কিন-ইসরায়েলি দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আঘাত করা হবে। তবে ওয়াশিংটন যদি আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলার আনুষ্ঠানিক ও প্রকাশ্য নিন্দা জানায়, তবে এই প্রতিশোধমূলক হামলা থেকে তারা বিরত থাকবে। আল জাজিরা এবং সিএনএন-এর তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক শাখা ক্যাম্পাস সচল রয়েছে।
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে ওয়াশিংটনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, মার্কিন সরকার যদি মধ্যপ্রাচ্যে থাকা তাদের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপদ দেখতে চায়, তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হামলার নিন্দা জানাতে হবে। এই আলটিমেটাম বাস্তবায়নের শেষ সময়সীমা হিসেবে স্থানীয় সময় সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুর ১২টা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “হোয়াইট হাউসের অবিবেচক শাসকরা জেনে রাখুক যে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে দখলদার ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থার সকল বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমেরিকান প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আমাদের বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু।”
বিগত এক মাস ধরে চলা এই যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় গত শনিবার ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থিত শীর্ষস্থানীয় ‘ইরান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ (আইইউএসটি)-তে বিমান হামলা চালায় মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী। এই হামলায় ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করাকে একটি স্বাধীন দেশের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ধ্বংস করার সুদূরপ্রসারী ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
এর আগে, গত ২৩ মার্চ এই একই বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের স্বনামধন্য শিক্ষক সাঈদ শেমকাদরি নিজ বাসভবনে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় সপরিবারে নিহত হন। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তারা মূলত ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতার সঙ্গে জড়িত কারিগরি ক্ষেত্রগুলোকে টার্গেট করছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ভূখণ্ডে অপারেশন শুরু হওয়ার পর মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ সহস্রাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে অসমর্থিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে। ইরানও এর পাল্টা জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিসহ জর্ডান, ইরাক ও ইসরায়েলে মুহুর্মুহু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।
আরটিভি/এআর