মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ , ০৯:৫৯ এএম
ইরানের মাশহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় একটি বেসামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা বিধ্বস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ভারতের নয়াদিল্লি থেকে মানবিক সহায়তা আনতে যাওয়ার আগে ইরানি বিমান সংস্থা মাহান এয়ারের একটি ফ্লাইট হামলার শিকার হয়।
ইরান এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথবাহিনীকে দায়ী করেছে। তেহরানের ভাষ্য, একটি পরিকল্পিত মানবিক মিশনে নিয়োজিত বেসামরিক ফ্লাইটকে লক্ষ্যবস্তু করায় আন্তর্জাতিক মানবিক কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকার জানিয়েছে, বিমানটি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে প্রায় ১১ টন মানবিক সহায়তা যার মধ্যে ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও খাদ্যসামগ্রী ছিল নিয়ে আসার কথা ছিল। এ ঘটনায় পশ্চিম এশিয়াজুড়ে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম।
এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পরপরই ইরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় প্রায় ১৬ থেকে ১৭টি বাণিজ্যিক যাত্রী ও পণ্যবাহী বিমান ধ্বংস হওয়ার দাবি ওঠে।
সে সময় ইসরায়েল দাবি করেছিল, এসব উড়োজাহাজ গোপনে নিয়ন্ত্রণ করত ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং এর বিশেষ ইউনিট কুদস ফোর্স। তাদের অভিযোগ, এসব বেসামরিক বিমানের মাধ্যমে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) ও আশাব আল-কাহ্ফ, এবং ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর কাছে অস্ত্র সরবরাহ করা হতো।
তবে পশ্চিমা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রের বরাতে দাবি করা হয়, হামলার শিকার হওয়া উড়োজাহাজগুলোর বেশিরভাগই ছিল সাধারণ যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী বিমান।
সাম্প্রতিক ঘটনায় ইসরায়েল নতুন করে অভিযোগ করেছে, ইরান এয়ার ইরান ও মাহান এয়ারের মতো বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী ফ্লাইট ব্যবহার করে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার জন্য অস্ত্র পরিবহণ করছে। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গত ১৮ মার্চ ইরানে প্রথম মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছিল ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সে সহায়তাকে ‘দু’দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সভ্যতাগত ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রতীক’ বলে বর্ণনা করেছিল। তখনও ইরানের বাণিজ্যিক ফ্লাইট ব্যবহার করেই মানবিক সহায়তা পাঠানো হয়েছিল।
সর্বশেষ হামলার পর আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে যুদ্ধাবস্থায় বেসামরিক ও মানবিক ফ্লাইটের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত, এবং আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল কতটা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
সূত্র : এএফপি
আরটিভি/এসকে