images

আন্তর্জাতিক

প্রথমবার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করল জাপান

মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ , ০২:২১ পিএম

প্রথমবারের মতো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে জাপান। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি সেনা ঘাঁটিতে এই ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন জাপানি কর্মকর্তারা। সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে টোকিও।

মোতায়েন করা ক্ষেপণাস্ত্রটি হলো উন্নত টাইপ-১২ ভূমি থেকে জাহাজে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, যা তৈরি করেছে মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ। এটি কুমামোটো প্রিফেকচারের ক্যাম্প কেনগুন সেনা ঘাঁটিতে স্থাপন করা হয়েছে।

জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বলেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটি এখন সবচেয়ে জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতির মুখোমুখি। তার ভাষায়, দেশের প্রতিরোধ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা বাড়াতে এই ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি জাপানের আত্মরক্ষার দৃঢ় অবস্থানও তুলে ধরে।

নতুন টাইপ-১২ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় এক হাজার কিলোমিটার, যেখানে আগের সংস্করণের পাল্লা ছিল মাত্র ২০০ কিলোমিটার। এর ফলে এই ক্ষেপণাস্ত্র এখন চীনের মূল ভূখণ্ড পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম। বিশ্লেষকদের মতে, এই সক্ষমতা জাপানকে দূর থেকে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে আঘাত হানার সুযোগ দেবে, যা দেশটির দীর্ঘদিনের কেবল আত্মরক্ষাভিত্তিক সামরিক নীতির বাইরে নতুন বার্তা দিচ্ছে।

তবে আবাসিক এলাকার কাছাকাছি এই ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন নিয়ে স্থানীয়ভাবে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। কেনগুন সেনা ঘাঁটির বাইরে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের আশঙ্কা, এমন অস্ত্র মোতায়েনের ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়তে পারে এবং ভবিষ্যতে এলাকা সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

এদিকে, জাপান তার দক্ষিণ-পশ্চিম দ্বীপগুলোর প্রতিরক্ষা জোরদার করতে সেখানে ধাপে ধাপে আরও অস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করছে। মঙ্গলবারই টোকিওর পশ্চিমে শিজুওকা প্রিফেকচারের ক্যাম্প ফুজি ঘাঁটিতে একটি হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল (এইচজিভি) মোতায়েন করা হয়েছে। এটি দ্বীপ প্রতিরক্ষার জন্য তৈরি নতুন ধরনের উন্নত অস্ত্র।

জাপান সরকার পরিকল্পনা করেছে, ২০২৮ সালের মার্চের মধ্যে দেশের উত্তরের হোক্কাইডো এবং দক্ষিণের মিয়াজাকিসহ আরও কয়েকটি এলাকায় উন্নত টাইপ-১২ ক্ষেপণাস্ত্র ও ভারী মালবাহী যান মোতায়েন করা হবে।

শুধু তাই নয়, চলতি বছরের শেষ দিকে জাপান তাদের যুদ্ধজাহাজ জেএস চোকাই-এ এবং পরে আরও সাতটি ডেস্ট্রয়ার জাহাজে মার্কিন তৈরি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বসানোর পরিকল্পনা করছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় এক হাজার ৬০০ কিলোমিটার।

জাপান দীর্ঘদিন ধরেই চীনকে তার প্রধান আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। বিশেষ করে পূর্ব চীন সাগরের কাছাকাছি দক্ষিণ-পশ্চিম দ্বীপগুলোতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে দেশটি।

এ প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্ত্রিসভা গত ডিসেম্বরে নতুন অর্থবছরের জন্য ৯ ট্রিলিয়ন ইয়েনের বেশি, অর্থাৎ প্রায় ৫৮ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন করেছে, যা জাপানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই বাজেটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোনসহ আধুনিক অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করা।

উদ্বেগ আরও বেড়েছে গত জুনের একটি ঘটনার পর। সে সময় জাপান প্রথমবারের মতো দেখে, প্রশান্ত মহাসাগরে তাদের দূরবর্তী দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি প্রায় একই সময়ে দুটি চীনা বিমানবাহী রণতরী সক্রিয় রয়েছে। এতে টোকিওতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, চীনের সামরিক কার্যক্রম এখন দেশের সীমান্তের বাইরেও অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে।

আরও পড়ুন
PERATUPER

মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে শুরু করেছে হাজার হাজার মার্কিন প্যারাট্রুপার

এরই মধ্যে গত সপ্তাহে জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, চীনের প্রশান্ত মহাসাগরীয় সামরিক তৎপরতা পর্যবেক্ষণের জন্য একটি নতুন দপ্তর গঠন করা হবে। আর এর আগে নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সতর্ক করে বলেছিলেন, তাইওয়ানের বিরুদ্ধে চীনের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ জাপানের সামরিক প্রতিক্রিয়ার কারণ হতে পারে। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

সূত্র : এপি

আরটিভি/এসকে