images

আন্তর্জাতিক

প্রতারণার শিকার বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক কচ্ছপ ‘জোনাথন’

বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬ , ০৪:৪৮ পিএম

বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক স্থলজ প্রাণী হিসেবে পরিচিত ১৯৪ বছর বয়সী বিশাল কচ্ছপ জোনাথনকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়েছে মৃত্যুর ভুয়া খবর। পরে জানা যায়, এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত ক্রিপ্টো প্রতারণা, যেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ভুয়া পরিচয়ে পোস্ট করে অনুদান চাওয়া হচ্ছিল।

দক্ষিণ আটলান্টিকের সেন্ট হেলেনা দ্বীপে বসবাসকারী এই সেশেলস জায়ান্ট কচ্ছপকে নিয়ে এক ভুয়া এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে দীর্ঘদিনের পশুচিকিৎসক জো হলিন্সের নামে দাবি করা হয়, জোনাথন শান্তিপূর্ণভাবে মারা গেছে। আবেগঘন সেই পোস্টে তার দীর্ঘ জীবন, কলা খাওয়ার অভ্যাস এবং শান্ত স্বভাবের কথা তুলে ধরে শোক প্রকাশ করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই পোস্টটি ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং লাখো মানুষ তা দেখে।

Untitled-2
১৯৪৭ সালে সেন্ট হেলেনায় জোনাথনের (বিখ্যাত কচ্ছপ) সঙ্গে দেখা করছেন রাজপরিবারের সদস্যরা, যার মধ্যে রয়েছেন রাজা ষষ্ঠ জর্জ, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ (তখনকার প্রিন্সেস এলিজাবেথ), প্রিন্সেস মার্গারেট এবং কুইন মাদার (তৎকালীন রানি এলিজাবেথ)। ছবি: সংগৃহীত 

গুজবের জেরে আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংবাদমাধ্যমও বিভ্রান্ত হয়ে খবর প্রকাশ করে। পরে তদন্তে জানা যায়, অ্যাকাউন্টটি আসলে ব্রাজিল থেকে পরিচালিত একটি ভুয়া প্রোফাইল। পোস্টটির সঙ্গে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অনুদান দেওয়ার আহ্বানও যুক্ত ছিল, যা প্রতারণার বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে।

প্রকৃত পশুচিকিৎসক জো হলিন্স জানান, তিনি এক্স ব্যবহারই করেন না। তিনি বলেন, জোনাথন একেবারেই জীবিত আছে। এটি কোনো রসিকতা নয়, সরাসরি প্রতারণা।

এদিকে সেন্ট হেলেনার গভর্নর নাইজেল ফিলিপসও গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর নিজে গিয়ে জোনাথনের খোঁজ নেন। তিনি জানান, কচ্ছপটি তখন গভর্নর হাউসের প্রাঙ্গণে একটি গাছের নিচে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছিল। পরে বৃহস্পতিবার সকালে জোনাথনের একটি ছবি তোলা হয়, যেখানে তাকে একটি আইপ্যাডের পাশে দেখা যায়— স্ক্রিনে খোলা ছিল সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইট, যেন সেটিই তার জীবিত থাকার প্রমাণ।

১৮৮২ সালে উপহার হিসেবে সেন্ট হেলেনায় আনা হয়েছিল জোনাথনকে। তখন থেকেই গভর্নরের বাসভবনের প্রাঙ্গণেই তার বসবাস। বয়সের ভারে সে এখন প্রায় অন্ধ, ঘ্রাণশক্তিও অনেকটাই হারিয়েছে। তবে এখনো তার ক্ষুধা ভালো, বিশেষ করে কলা তার খুব প্রিয়। দ্বীপ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিদিন ঘাস খাওয়া, রোদে বিশ্রাম নেওয়া এবং নিয়মিত পরিচর্যাই হয়তো তার দীর্ঘ জীবনের রহস্য।

ছোট্ট দ্বীপ সেন্ট হেলেনার মানুষের কাছে জোনাথন শুধু একটি প্রাণী নয়, একপ্রকার জীবন্ত ইতিহাস। তাই তার মৃত্যুর ভুয়া খবর দ্বীপজুড়ে উদ্বেগ ও আলোড়নের সৃষ্টি করেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আরটিভি/এমএইচজে