শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:৫৮ পিএম
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কাকে ঘিরে বড় ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সমানতালে এগিয়ে চলছে বিভিন্ন যুগান্তকারী প্রকল্পের কাজ। এরই অংশ হিসেবে সবশেষ এবার মক্কায় নিজস্ব বিমানবন্দর নির্মাণের অনুমোদনও দিয়েছে সৌদি সরকার।
হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের যাতায়াতকে সহজ করতে এবং তাদের হজ ও ওমরাহর অভিজ্ঞতাকে আরও সুন্দর করতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। খবর সৌদি গেজেটের।
মক্কা সিটি ও পবিত্র স্থানগুলোর রয়্যাল কমিশনের প্রধান নির্বাহী সালেহ আল-রাশিদ জানান, প্রকল্পটির কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দিক চূড়ান্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের একটি বিমানবন্দর গড়ে তোলাই এর উদ্দেশ্য।
সৌদি গেজেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্বে এই বিমানবন্দর নির্মাণ করা হবে। একইসঙ্গে জেদ্দার কিং আবদুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যকারিতাও যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করা হবে।
অবশ্য এই প্রকল্প এখনও প্রাথমিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ পর্যায়ে রয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হলেও নির্মাণ শুরুর সময়সূচি এখনও ঘোষণা করা হয়নি। সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য হজ ও ওমরাহ যাত্রীসংখ্যা বাড়ানো এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন।
বর্তমানে মক্কায় যেতে হলে জেদ্দা হয়ে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। নতুন বিমানবন্দর হলে যাত্রীদের যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
এছাড়া, মক্কা মেট্রো প্রকল্পের কাজও জোরেশোরে এগোচ্ছে। সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রাথমিক নকশা শেষ হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পবিত্র স্থানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। ‘স্মার্ট মক্কা’ কর্মসূচির আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে জামারাত সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভিড় কমাতে পূর্বাভাসভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
মক্কার বাস নেটওয়ার্ক এখন ১২টি রুটে প্রায় ৪০০টি বাস পরিচালনা করছে। এই নেটওয়ার্ক ৪৩০টির বেশি স্টপেজ ও চারটি কেন্দ্রীয় স্টেশনকে যুক্ত করেছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে চালু হওয়ার পর থেকে এই সেবায় ১৮ কোটি ৫০ লাখের বেশি যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে এবং ৩৮ লাখের বেশি ট্রিপ সম্পন্ন হয়েছে।
‘মক্কা ট্যাক্সি’ সেবাও চালু করা হয়েছে। এই সেবার অধীনে আধুনিক গাড়ি, ট্র্যাকিং ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক পেমেন্ট এবং বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ির সুবিধা রয়েছে। এর পাশাপাশি মক্কার রিং রোডের বড় অংশের কাজ শেষ হয়েছে এবং তা পবিত্র মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় স্থানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, ফলে যানজট কমেছে।
এছাড়া, আরাফাত ও মিনাসহ গুরুত্বপূর্ণ হজস্থলগুলোতে উন্নয়ন কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত অবকাঠামো, বহুস্তরবিশিষ্ট তাঁবু, নতুন আবাসিক টাওয়ার এবং ২০০ শয্যার একটি জরুরি হাসপাতালও রয়েছে। এসব স্থানে পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে, যার অধীনে গাছ লাগানো, ছায়াযুক্ত পথ তৈরি এবং পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব উন্নয়ন বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াবে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে এবং হজযাত্রীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করবে। তাদের লক্ষ্য, যাত্রী সন্তুষ্টির হার ৯০ শতাংশের বেশি করা। বিমানবন্দর ও মেট্রো প্রকল্প মক্কার ভবিষ্যৎ যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরটিভি/এসএইচএম