শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬ , ০২:১৫ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান আকাশযুদ্ধে একের পর এক চমক দেখাচ্ছে ইরান।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দেশটির ঐতিহাসিক শহর ইসফাহানের সংবেদনশীল আকাশসীমায় প্রবেশ করা যুক্তরাষ্ট্রের একটি অতি-আধুনিক ‘এমকিউ-১ প্রিডেটর’ অ্যাটাক ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করার দাবি করেছে তেহরান।
ইরানি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সম্পূর্ণ নিজস্ব ও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়।
এর আগে শুক্রবারও মার্কিন বিমানবাহিনীর ওপর বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছিল। দক্ষিণ-পূর্ব ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও ভারী ‘এফ-১৫-ই স্ট্রাইক ইগল’ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে আইআরজিসি। একই দিন হরমুজ প্রণালির কাছে খুব নিচু দিয়ে হামলা চালাতে দক্ষ আরও একটি মার্কিন ‘এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু’ যুদ্ধবিমান নিখুঁত নিশানায় মাটিতে নামিয়ে আনে ইরানি সেনারা।
পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, বিধ্বস্ত এ-১০ বিমানের পাইলট চরম দক্ষতায় বিমানটিকে ইরানের মূল আকাশসীমা থেকে বের করে নিতে সমর্থ হন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; বিমানটি পরবর্তীতে হরমুজ প্রণালির কাছে পারস্য উপসাগরের নীল পানিতে আছড়ে পড়ে। পাইলট প্যারাসুটে করে একটি উপসাগরীয় আরব দেশে অবতরণ করতে সক্ষম হন এবং বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
এদিকে, শুক্রবার ভূপাতিত হওয়া এফ-১৫-ই যুদ্ধবিমানের দুজন ক্রু বা পাইলটের মধ্যে একজনকে অত্যন্ত রক্তক্ষয়ী ও ঝুঁকিপূর্ণ হেলিকপ্টার অভিযান চালিয়ে আগেই উদ্ধার করেছিল মার্কিন সেনারা। কিন্তু বিমানের দ্বিতীয় ক্রু এখনো দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিখোঁজ রয়েছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সেই নিখোঁজ ক্রুকে হন্যে হয়ে উদ্ধার করতে গতকাল শুক্রবার রাতেই সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে মার্কিন বিশেষ সামরিক বাহিনী ‘স্পেশাল ফোর্স’ বা কমান্ডোরা। মার্কিন হেলিকপ্টারগুলো যখন সেনাকে উদ্ধারে নিচু দিয়ে উড়ছিল, তখন চারপাশ থেকে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে ইরানি বর্ডার পুলিশ।
তাদের হালকা অস্ত্রের মুহুর্মুহু গুলিতে উদ্ধারকারী একটি মার্কিন ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারের লেজের অংশে আগুন ধরে যায় এবং ঘন ধোঁয়া বের হতে থাকে। তবে চরম দক্ষতায় সেটি অক্ষত অবস্থায় পরবর্তীতে ইরাক সীমান্তের নিরাপদ ঘাঁটিতে অবতরণ করতে সক্ষম হয়। মার্কিন কমান্ডোরা যখন তাদের সেনার জীবন বাঁচাতে মরিয়া হয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে, ঠিক তখনই ওই পাইলটকে যুদ্ধবন্দি করতে এবং বিশাল নগদ পুরস্কারের আশায় পাহাড়ি উপত্যকায় পাল্টা চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে স্থানীয় ইরানি মিলিশিয়ারা।
আরটিভি/এআর