images

আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানকে যে বার্তা দিলেন ট্রাম্প

মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬ , ০৯:১৬ এএম

গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের বিষয়ে ইরানকে কড়া বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানকে এ পথ থেকে টোল নিতে দেওয়া হবে না। বরং প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রই টোল নেবে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প। সেখানে এক সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা চালু করে, তবে সে বিষয়ে তিনি সম্মত হবেন কি না। 

জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে টোল নিতে দেব না। এর বদলে আমরাই নেব। আমরা কেন টোল নেব না? আমরা বিজয়ী। আমরা জিতেছি।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি থেকে যুক্তরাষ্ট্র যদি সরাসরি টোল আদায়ের মতো কোনো পদক্ষেপ নিতে চায়, তবে সেক্ষেত্রে অঞ্চলটিতে তাদের সামরিক উপস্থিতি ও নিয়ন্ত্রণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হতে পারে।

এদিকে একই সংবাদ সম্মেলনে ইরানকে আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, তার বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে ইরান যদি কোনো গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে না আসে, তাহলে দেশটিকে “এক রাতে তছনছ করে দেওয়া হতে পারে”।

ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন ডিসির সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত ৮টা পর্যন্ত ইরানকে সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সমঝোতায় না এলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

তিনি বলেন, পুরো দেশটিকে এক রাতে তছনছ করে দেওয়া হতে পারে। আর সেটি হতে পারে কাল রাতেই।

তবে ট্রাম্পের এমন হুমকির জবাবে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি নয়। তেহরানের দাবি, যদি কোনো চুক্তি হয়, তবে সেটি হতে হবে স্থায়ীভাবে হামলা বন্ধের ভিত্তিতে এবং তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণও দিতে হবে।

ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে একটি “গ্রহণযোগ্য চুক্তির প্রস্তাব” দিয়েছে এবং দেশটির নেতারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে তার এই বক্তব্যের কিছুক্ষণ পরই ইরান যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস এ পথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। ফলে এ অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়লে তার প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে।

সূত্র: আলজাজিরা

আরটিভি/এসকে