images

আন্তর্জাতিক / যুক্তরাষ্ট্র

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের ডাক মার্কিন আইনপ্রণেতাদের

মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬ , ০৬:৩৩ পিএম

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি এখন তুঙ্গে। দেশটির প্রভাবশালী আইনপ্রণেতারা ট্রাম্পের বর্তমান মানসিক ও প্রশাসনিক অবস্থাকে ‘ভারসাম্যহীন’ আখ্যা দিয়ে সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের মাধ্যমে তাকে দ্রুত পদচ্যুত করার আহ্বান জানিয়েছেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে নতুন করে অভিশংসন বা ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করারও ডাক দিয়েছেন অনেক কংগ্রেস সদস্য।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের দাবিতে সর্বশেষ যুক্ত হয়েছেন অ্যারিজোনার কংগ্রেসওম্যান ইয়াসামিন আনসারি। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড এখন সমস্ত সীমা অতিক্রম করেছে এবং তিনি বিশ্বকে এক অনিশ্চিত ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।

নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় ইয়াসামিন আনসারি অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি বিধ্বংসী ও সম্পূর্ণ অবৈধ সংঘাতকে ক্রমাগত উসকে দিচ্ছেন। 

আরও পড়ুন
trump

ইরানকে এক রাতে তছনছ করে দেওয়ার হুমকি দিলেন ট্রাম্প

তিনি আরও বলেন, “ট্রাম্প প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধের হুমকি দিচ্ছেন এবং ইরানের সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন করে বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছেন। গত ৪৮ ঘণ্টায় তার দায়িত্বজ্ঞানহীন কথা ও কাজ সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে।”

একই সুরে মিনেসোটার জনপ্রিয় কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরও সরব হয়েছেন। ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় হামলার হুমকির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এখনই ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করে এই ভারসাম্যহীন উন্মাদকে পদ থেকে অপসারণ করুন।” 

নিউ মেক্সিকোর কংগ্রেসওম্যান মেলানি স্ট্যানসবারি এবং ইলিনয়ের প্রাক্তন রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জো ওয়ালশও অবিলম্বে ট্রাম্পকে সরাতে মন্ত্রিসভাকে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। জো ওয়ালশ তো ট্রাম্পকে আমেরিকার ইতিহাসের এক ‘কলঙ্ক’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন।

মার্কিন সংবিধানের এই ২৫তম সংশোধনীটি মূলত ১৯৬৭ সালে পাস করা হয়। এটি এমন এক সাংবিধানিক প্রক্রিয়া যা প্রেসিডেন্টের মৃত্যু, পদত্যাগ বা শারীরিক ও মানসিক অক্ষমতার ক্ষেত্রে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিধান রাখে। এই ধারার অধীনে ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রিসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য যদি মনে করেন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালনে সক্ষম নন, তবে তারা তাকে ‘অক্ষম’ ঘোষণা করে সরিয়ে দিতে পারেন। 

ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফিও মনে করেন, ট্রাম্পের বর্তমান কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে যে তিনি চূড়ান্তভাবে ভারসাম্যহীন এবং ইতিমধ্যেই হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে অনুমোদিত হয়েছিল। আমেরিকার ইতিহাসে অ্যান্ড্রু জনসন ও বিল ক্লিনটনের পর তিনি ছিলেন তৃতীয় প্রেসিডেন্ট যিনি অভিশংসিত হয়েছিলেন। তবে অতীতে কোনো প্রেসিডেন্টকেই সিনেটের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। 

আরটিভি/এআর