মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬ , ০৯:২৭ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যখন এক ভয়াবহ পরমাণু যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে, ঠিক তখনই ইরানকে উদ্দেশ্য করে ভয়াবহ এক হুমকি দিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
তিনি জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ওয়াশিংটনের হাতে এমন কিছু শক্তিশালী ‘অস্ত্র’ বা সামরিক ব্যবস্থা রয়েছে, যা এখন পর্যন্ত যুদ্ধের ময়দানে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে হোয়াইট হাউস। তবে ইরান যদি তাদের আচরণের ধারা পরিবর্তন না করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে না নেয়, তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই সব গোপন অস্ত্র প্রয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। খবর আল জাজিরার।
বর্তমানে হাঙ্গেরি সফরে থাকা জেডি ভ্যান্স মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই মন্তব্য করেন।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানিদের জানা উচিত যে আমাদের হাতে এমন সব ব্যবস্থা রয়েছে যা আমরা এ পর্যন্ত ব্যবহার করিনি। কিন্তু তারা যদি সংঘাতের পথ বেছে নেয়, তবে প্রেসিডেন্ট অবশ্যই সেগুলো ব্যবহারের পথে হাঁটবেন।
জেডি ভ্যান্সের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া আল্টিমেটামের সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। ওয়াশিংটনের বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী, বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টার মধ্যে ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়াসহ সব শর্ত মেনে নিতে হবে।
তবে এই সময়সীমা পার হওয়ার আগেই নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক ভয়ংকর বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প।
তিনি লিখেছেন, “আজ রাতেই একটি আস্ত সভ্যতা মারা যাবে; যা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। আমি চাই না এমনটা হোক, তবে সম্ভবত এটিই হতে চলেছে।”
ট্রাম্পের এই ‘সভ্যতা ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুমকি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প হয়তো ইরানের প্রধান শহর ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কার্পেট বোম্বিং কিংবা আরও বড় কোনো বিধ্বংসী আক্রমণের পরিকল্পনা করছেন।
ভয়াবহ এই সামরিক পদক্ষেপ এড়াতে এখনো আলোচনার পথ খোলা আছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন জেডি ভ্যান্স। তিনি জানান, আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত আরও অনেক আলোচনার সুযোগ রয়েছে এবং তিনি আশা করেন আলোচনার মাধ্যমেই এই অস্ত্রের প্রয়োগ এড়ানো সম্ভব হবে। ভ্যান্সের মতে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্যগুলোর অধিকাংশই ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে, তাই এখন একটি চূড়ান্ত রাজনৈতিক ফয়সালা প্রয়োজন।
এদিকে ট্রাম্পের এই ক্রমবর্ধমান আক্রমণাত্মক মেজাজকে তার ‘বেপরোয়া ও ক্ষুব্ধ’ হয়ে ওঠার লক্ষণ হিসেবে দেখছে তেহরান। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান আহমাদিয়ান আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “ট্রাম্পের সুর দিন দিন আরও কঠোর হচ্ছে কারণ তিনি সম্ভবত সংকটে আছেন। তিনি চাইছেন তার হুমকিগুলো ইরানিদের মনে চরম আতঙ্ক তৈরি করুক যাতে তারা পিছু হটে।”
অধ্যাপক আহমাদিয়ান আরও সতর্ক করে বলেন, এটি এক ভয়াবহ চোরাবালি, যা যুদ্ধ শুরুর সাথে সাথেই তৈরি হয়েছিল। ট্রাম্প নিজের সব লক্ষ্য অর্জন করতে না পেরে এখন সাধারণ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছেন। অন্যদিকে তেহরানও আমেরিকার যেকোনো আগ্রাসনের ‘সমুচিত জবাব’ দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ইতিমধ্যেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সেতু, মহাসড়ক ও তেল স্থাপনাগুলোতে বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে, পাল্টা হুশিরায়ি দিয়ে আইআরজিসি জানিয়েছে ,মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করলে এর ফলাফল কেবল মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
আরটিভি/এআর