রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ , ০১:২৮ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণ ও জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়েছে। মার্কিন সামরিক কমান্ড (সেন্টকম) প্রণালিতে মাইন অপসারণের কাজ শুরু করার দাবি করলেও ইরান তা নাকচ করে দিয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে, শনিবার সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মার্কিন নৌবাহিনীর দুই শক্তিশালী ডেস্ট্রয়ার 'ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই. পিটারসন' এবং 'ইউএসএস মাইকেল মারফি' বর্তমানে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে আরব উপসাগরে অবস্থান করছে। তারা সেখানে সমুদ্র মাইন অপসারণের বিশেষ মিশনে নিয়োজিত রয়েছে।
মার্কিন অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক বিবৃতিতে এই অভিযানকে ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের একটি ‘মোড় ঘোরানো মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, আজ আমরা একটি নতুন ও নিরাপদ পথ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছি। খুব শিগগিরই এই পথটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে, যাতে বিশ্ব বাণিজ্যের স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরায় নিশ্চিত হয়।
তবে, সেন্টকমের এই দাবির পরপরই ইরানের সামরিক বাহিনীর ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি মার্কিন জাহাজ প্রবেশের দাবিকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। ইরানি মুখপাত্রের মতে, এই জলপথে যেকোনো জাহাজের চলাচল এবং পারাপারের বিষয়টি এককভাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ইরানের এলিট বাহিনী আইআরজিসি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, তেহরানের অনুমতি ছাড়া কোনো সামরিক জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করলে তার ‘কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে।
দক্ষিণ এশিয়ান স্ট্র্যাটেজিক স্ট্যাবিলিটি ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মারিয়া সুলতান আল জাজিরাকে বলেন, ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ভেদ করে মার্কিন নৌবহরের অবাধ চলাচল কার্যত অসম্ভব। যদি তারা প্রবেশ করে থাকে, তবে তা অবশ্যই ইরানের সঙ্গে কোনো গোপন বোঝাপড়ার মাধ্যমেই হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং তেলের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে।
আরটিভি/এআর