রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ , ১০:২৭ পিএম
হাইতির উত্তরাঞ্চলের একটি ঐতিহাসিক পাহাড়চূড়ার দুর্গে ভয়াবহ পদদলনের ঘটনায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ বলে জানিয়েছে দেশটির প্রশাসন। এ ছাড়া আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং কয়েকজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
শনিবার (১২ এপ্রিল) জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সিতাদেল অঁরি (Citadelle Laferrière), যা সিতাদেল লাফেরিয়ের নামেও পরিচিত, সেখানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এটি উনিশ শতকের শুরুতে ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর নির্মিত একটি ঐতিহাসিক দুর্গ এবং ১৯৮২ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
হাইতির নর্ড বিভাগের সিভিল প্রোটেকশন প্রধান জ্যঁ অঁরি পেতি জানান, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ এখনও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্গের একটি সরু প্রবেশপথে দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হয়। একদিকে কিছু মানুষ ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন, অন্যদিকে অনেকে বের হয়ে আসছিলেন। এ সময় ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে ভয়াবহ পদদলনের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে প্রচারের পর সেখানে একটি বড় জমায়েত হয়। এ কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ দুর্গ এলাকায় উপস্থিত ছিলেন।
আরও কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্গের কাছে একটি সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ অতিরিক্ত টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেই আতঙ্ক থেকেই হুড়োহুড়ি ও পদদলনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হাইতির সংস্কৃতিমন্ত্রী এমানুয়েল মেনার নিহতের সংখ্যা ৩০ জন বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং উদ্ধারকারীরা নিখোঁজদের খোঁজে অভিযান চালাচ্ছেন।
ঘটনার পর দুর্গটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
হাইতির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং নাগরিকদের শান্ত ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাইতি একের পর এক বড় বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গ্যাং সহিংসতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অভিযানের মধ্যে রয়েছে।
পশ্চিম গোলার্ধের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ হিসেবে পরিচিত হাইতি সম্প্রতি জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিরও বড় ধাক্কা সামলাচ্ছে। ইরান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ায় দেশটিতে ডিজেলের দাম ৩৭ শতাংশ এবং পেট্রোলের দাম ২৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
এর ফলে পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেছে, সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে এবং বহু দরিদ্র মানুষ খাদ্য সংকটে পড়েছেন।
২০২৪ সালে একটি জ্বালানি ট্যাংক বিস্ফোরণে দুই ডজনের বেশি মানুষ নিহত হন। এর আগে ২০২১ সালে আরেকটি ট্যাংক বিস্ফোরণে প্রায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়। একই বছরে ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় ২ হাজার মানুষ প্রাণ হারান।
সর্বশেষ দুর্গে পদদলনের এই ঘটনা হাইতির দীর্ঘ দুর্যোগের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হলো। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আরটিভি/এমএইচজে