সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ , ০৮:৩৩ এএম
প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের ১৬ বছরের শাসন শেষ হলো হাঙ্গেরিতে। দেশটির নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছেন বিরোধী নেতা পিটার ম্যাগিয়ার। অরবান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন। তার পরাজয় ইউরোপীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইইউ’র সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন আর মস্কোর প্রভাব কমানোর প্রতিশ্রুতি নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯৮ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, ম্যাগিয়ারের দল তিসজা পেয়েছে ৫৩ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট, যেখানে অরবানের ফিদেজ পেয়েছে ৩৭ দশমিক ৮ শতাংশ।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ১৯৯ সদস্যের পার্লামেন্টে তিসজা পেতে যাচ্ছে প্রায় ১৩৮টি আসন, যা সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারে।
ম্যাগিয়ারের জয়কে হাঙ্গেরির রাজনীতিতে বড় ধরনের পালাবদল হিসেবে দেখছেন অনেকে। নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করেছেন ভিক্টর অরবান। বিরোধী নেতা পিটার ম্যাগিয়ারকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। রোববার (১২ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পিটার ম্যাগিয়ার বলেন, ‘আমাদের বিজয়ে অভিনন্দন জানাতে ফোন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান।’
জয় নিশ্চিত হওয়ার পর রাজধানী বুদাপেস্টে দানিউব নদীর তীর সমবেত হাজার হাজার সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ম্যাগিয়ার বলেন, ভোটাররা নতুন করে ইতিহাস লিখেছেন।
তিনি বলেন, ‘আজ রাতে মিথ্যার ওপর সত্য বিজয়ী হয়েছে। আজ আমরা জিতেছি, কারণ হাঙ্গেরির মানুষ তাদের মাতৃভূমি তাদের জন্য কী করতে পারে—এটা জিজ্ঞাসা করেনি; বরং তারা জিজ্ঞাসা করেছে, তারা তাদের মাতৃভূমির জন্য কী করতে পারে। আপনারা সেই উত্তর খুঁজে পেয়েছেন। এবং তা বাস্তবায়ন করেছেন।’
আরটিভি/এসএস