সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:১৯ পিএম
হরমুজ প্রণালিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অবরোধ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে ইরানি জাহাজ ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলে ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) ওয়াশিংটন সময় রাত ৮টা থেকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের উপসাগরীয় বন্দরগুলো কার্যত অবরুদ্ধ করতে শুরু করে মার্কিন বাহিনী। এ অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরানের কোনো জাহাজ যদি অবরুদ্ধ অঞ্চলের কাছে আসে, তাৎক্ষণিকভাবে সেটি ধ্বংস করা হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনীর বড় অংশ ইতোমধ্যে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। যদিও কিছু ‘ফাস্ট অ্যাটাক’ জাহাজ অক্ষত রয়েছে, তবে অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে সেগুলোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের কড়া জবাব দিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বাহিনীটির এক মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের কোনো বন্দর নিরাপদ থাকবে না, যদি ইরানের বন্দর হুমকির মুখে পড়ে।
আইআরজিসি যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধকে অবৈধ এবং সামুদ্রিক দস্যুতা হিসেবেও অভিহিত করেছে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং ঘোষণা দেয় যে, শত্রুদের কোনো জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে পারবে না।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে হয়। ফলে এই অবরোধ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই সরাসরি সামরিক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
আরটিভি/এমএইচজে