images

আন্তর্জাতিক

১০৫ বছর বয়সে মাস্টার্স ডিগ্রি পেলেন এই নারী

বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ , ০৪:৫৫ পিএম

দীর্ঘ ৮০ বছরেরও বেশি অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ১০৫ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন ভার্জিনিয়া (জিনি) হিসলপ।

স্ট্যানফোর্ড গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এডুকেশন (জিএসই) থেকে শিক্ষা বিষয়ে এই ডিগ্রি গ্রহণ করেন তিনি।

তার শিক্ষাজীবনের শুরু হয়েছিল ১৯৪০-এর দশকে, কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে মাঝপথে থেমে যায় সেই পথচলা। অবশেষে ৮৩ বছর পর সেই স্বপ্ন পূরণ হলো।

জানা গেছে, ভার্জিনিয়া হিসলপ ১৯৪০-এর দশকে স্ট্যানফোর্ডে প্রয়োজনীয় সব কোর্স সম্পন্ন করেছিলেন। তবে মাস্টার্স থিসিস জমা দেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। সে সময় তার প্রেমিক জর্জ হিসলপ যুদ্ধের ডাকে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য হন। এরপর ভার্জিনিয়া পড়াশোনা ছেড়ে তাকে বিয়ে করেন। পরে তিনি যুদ্ধকালীন বিভিন্ন সহায়ক কাজে অংশ নেন এবং সংসার ও সন্তান প্রতিপালনে মনোনিবেশ করেন।

পরবর্তী সময়ে দুই সন্তান, চার নাতি-নাতনি এবং ৯ প্রপৌত্র-প্রপৌত্রীর বড় পরিবার সামলানোর পাশাপাশি ভার্জিনিয়া বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ বোর্ডে দায়িত্ব পালন করেন।

শুধু পরিবার নয়, শিক্ষাক্ষেত্রেও তিনি দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। ওয়াশিংটনের ইয়াকিমা অঞ্চলের স্কুলব্যবস্থা উন্নয়নে তার ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

এদিকে সময়ের সঙ্গে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাদের থিসিস জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেয়। ফলে এত বছর পর তার সম্পন্ন করা কোর্সগুলোর ভিত্তিতে মাস্টার্স ডিগ্রি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয়।

গত ১৬ জুন স্ট্যানফোর্ডের সমাবর্তন মঞ্চে হেঁটে গিয়ে শিক্ষা বিষয়ে মাস্টার অব আর্টস ডিগ্রি গ্রহণ করেন ভার্জিনিয়া হিসলপ।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

২৮০০ কোটি টাকার মার্কিন ড্রোন ধ্বংস করল ইরান

স্ট্যানফোর্ডের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এডুকেশনের ডিন ড্যানিয়েল শোয়ার্টজ যখন তার হাতে ডিগ্রির সনদ তুলে দেন, তখন আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, হে ঈশ্বর, এর জন্য আমি অনেক দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছি।

পরে গুড মর্নিং আমেরিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে ভার্জিনিয়া বলেন, ভান করা বিনয় আমার স্বভাবের মধ্যে নেই। আমি মনে করি, আমি এটি পাওয়ার যোগ্য ছিলাম, আর এটি পেয়ে আমি ভীষণ আনন্দিত।

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল— শেখার কোনো বয়স নেই, স্বপ্ন পূরণেরও সময়সীমা নেই। সূত্র: এবিসি নিউজ

আরটিভি/এমএইচজে