বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:২৭ পিএম
নিজেদের আকাশসীমা বা বিমানবন্দর ব্যবহার করে ইসরায়েলে কোনো ধরনের সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো যাবে না—সরকারের এমন কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে এবার ব্রিটিশ সামরিক চালানের ওপর চড়াও হয়েছে বেলজিয়াম। যুক্তরাজ্য থেকে ইসরায়েলের উদ্দেশ্যে পাঠানো সামরিক সরঞ্জামের দুটি বড় চালান জব্দ করেছে ব্রাসেলস কর্তৃপক্ষ।
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
গত ২৩ মার্চ ব্রিটেন থেকে রওনা হওয়া চালান দুটি ২৪ মার্চ বেলজিয়ামের লিঁয়জ বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি করলে তা আটকে দেওয়া হয়। বেলজিয়াম সরকার আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, ইসরায়েলগামী কোনো সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী বিমানকে তারা তাদের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেবে না।
জব্দকৃত চালান দুটি পরীক্ষা করে একজন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী জানিয়েছেন, সেখানে ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম এবং সামরিক বিমানের বিভিন্ন খুচরা যন্ত্রাংশ পাওয়া গেছে। অথচ রপ্তানি দলিলে এগুলোকে সাধারণ ‘এয়ারক্রাফট কম্পোনেন্ট’ বা বেসামরিক উড়োজাহাজের সরঞ্জাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। মূলত ট্রানজিট লাইসেন্স এড়াতেই এই তথ্য গোপন করা হয়েছে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।
এই ঘটনায় বেলজিয়ামের কেন্দ্রীয় সরকার ইতোমধ্যে একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের স্বার্থে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম সরাসরি প্রকাশ না করলেও দক্ষিণ বেলজিয়ামের ওয়্যালুন আঞ্চলিক সরকার জানিয়েছে, এর পেছনে রয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘মুগ’, যাদের কারখানা যুক্তরাজ্যে অবস্থিত।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডিক্লাসিফাইড, বেলজিয়ান এনজিও ভ্রেডেসঅ্যাক্টি এবং ফিলিস্তিনি ইয়ুথ মুভমেন্টের সম্মিলিত অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মুগ কোম্পানি থেকে অন্তত ১৭টি চালান একইভাবে যুক্তরাজ্য থেকে লিঁয়জ বিমানবন্দর হয়ে ইসরায়েলে পাঠানো হয়েছে। মূলত ইসরায়েলি পাইলটদের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত এম-৩৪৬ বিমানের যন্ত্রাংশ তৈরিতে এই কোম্পানিটি যুক্ত। গত ডিসেম্বরেও তারা একইভাবে ইসরায়েলে পণ্য পাঠিয়েছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বেলজিয়াম সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়ে দিয়েছেন, এই পণ্যগুলোর জন্য ট্রানজিট লাইসেন্সের আবেদন করা হয়নি; যদি করা হতোও, তবে বর্তমান নীতির আলোকে তা প্রত্যাখ্যান করা হতো।
অন্যদিকে, ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর এই বিষয়ে নিজেদের দায় এড়িয়ে জানিয়েছে, বেলজিয়াম হয়ে ইসরায়েলে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর বিষয়ে কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে গাজায় মানবিক আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি থাকায় ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রির ৩০টি লাইসেন্স স্থগিত করেছিল যুক্তরাজ্য। তবে বেলজিয়ামে এই চালান জব্দ হওয়ার ঘটনা ব্রিটিশ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলল।
আরটিভি/এআর