শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ , ০৩:৩৯ পিএম
ইউক্রেনে কয়েক মাসের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। একাধিক দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্মকর্তারা।
স্থানীয় সময় বৃহস্পিতবার (১৬ এপ্রিল) ভোররাতে কিয়েভে সাইরেন বেজে ওঠার পরপরই একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে শহর। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিওতে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে আগুন ও ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশ ঢেকে ফেলেছে। একটি ড্রোন সরাসরি একটি বহুতল আবাসিক ভবনে আঘাত হানার ঘটনাও ধরা পড়ে।
কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরনগরী ওডেসাতে ৯ জন, মধ্যাঞ্চলের দ্নিপ্রো শহরে ৫ জন এবং রাজধানী কিয়েভে ৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলে ইউক্রেনের পাল্টা ড্রোন হামলায় ২ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে এক কিশোরীও রয়েছে।
গত সপ্তাহে অর্থোডক্স ইস্টার উপলক্ষে স্বল্প সময়ের যুদ্ধবিরতি হলেও উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে তা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। এর পরপরই এই বড় ধরনের হামলা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, নিহতদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী এক কিশোর রয়েছে এবং অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছেন। পোডিল এলাকায় একটি ১৬ তলা ভবন ধসে পড়লে ধ্বংসস্তূপ থেকে এক নারী ও শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
দ্নিপ্রো অঞ্চলের প্রধান ওলেক্সান্দর গানঝা বলেন, সেখানে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এছাড়া খারকিভ শহরে পৃথক হামলায় দুই বয়স্ক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলের মাইকোলাইভ ও খেরসন শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়েছে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়া ৬৫৯টি ড্রোন এবং ৪৪টি ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে অধিকাংশ ভূপাতিত করা হলেও ২৬টি স্থানে সরাসরি আঘাত হানে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, রাশিয়া যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার দিকেই এগোচ্ছে। তাই আমাদেরও সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং একইসঙ্গে শান্তির পথ খুঁজতে হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এই হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ উল্লেখ করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর আন্তর্জাতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রায় পাঁচ বছরে গড়ানো এই যুদ্ধে একাধিকবার শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখনও অচলাবস্থায় রয়েছে। ইউক্রেন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও রাশিয়া আগে শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত করার ওপর জোর দিচ্ছে— যা নিয়ে কিয়েভের অভিযোগ, মস্কো যুদ্ধ বন্ধে আন্তরিক নয়। সূত্র: বিবিসি
আরটিভি/এমএইচজে