রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ , ০৬:২৭ পিএম
ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুরে ৪৮ বছর বয়সী এক বাবা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ১১ বছর বয়সী যমজ দুই কন্যাকে গলা কেটে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) ভোরে তাদের নিজ বাসায় এই ঘটনা ঘটে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের পর নিজেই পুলিশকে ফোন করে দুই মেয়েকে হত্যা করার কথা জানান শশী রঞ্জন। অভিযুক্ত ব্যক্তি পেশায় একজন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ। পুলিশ জানায়, শশী রঞ্জন মিশ্র মূলত বিহারের বাসিন্দা। তিনি তার স্ত্রী রেশমা, যমজ কন্যা ঋদ্ধি ও সিদ্ধি এবং ছয় বছর বয়সী এক পুত্রকে নিয়ে কানপুরের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি তার স্ত্রীর প্রতি পরকীয়ার সন্দেহ পোষণ করতেন। এ নিয়ে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ হতো। স্ত্রীকে বলতেন, সে যেন তাদের ছেলেকে নিয়ে আলাদা থাকেন এবং তিনি নিজে শুধু মেয়েদের দায়িত্ব নেবেন। স্ত্রী রেশমা জানান, শশী দীর্ঘদিন ধরে হতাশায় ভুগছিলেন এবং বাসার ভেতরে একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, শশী তাকে মেয়েদের কক্ষে প্রবেশ করতেও দিতেন না।
রেশমা আরও বলেন, শনিবার রাতের খাবারের পর শশী দুই মেয়েকে ঘুমাতে নিয়ে যান। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে তিনি এক মেয়েকে বাথরুমে নিয়ে যান এবং পরে তারা আবার ঘরে ফিরে আসে। এরপর ঘরের আলো নিভিয়ে দেয়া হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তিনি জরুরি সেবার নম্বরে ফোন করে জানান যে তিনি তার দুই কন্যাকে হত্যা করেছেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই শিশুকেই রক্তাক্ত হয়ে পড়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পায়। তাদের গলা কাটা ছিল, ওই সময় ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন শশী। পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা রেশমা কানপুরে একটি বিউটি পার্লারে কাজ করার সময় শশীর সঙ্গে পরিচিত হন। পরে ২০১৪ সালে তাদের বিয়ে হয়।
কানপুরের উপ-পুলিশ কমিশনার দীপেন্দ্র নাথ চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
আরটিভি/টিআর