images

আন্তর্জাতিক / যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে যুদ্ধ চান না সাবেক মার্কিন সেনারা, বিক্ষোভে গিয়ে আটক ৬০

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ , ০৮:১০ পিএম

ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘাত কিংবা যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হোক এমনটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সেনাসদস্যরা । এ লক্ষ্যে সোমবার (২০ এপ্রিল)  মার্কিন কংগ্রেস ভবনের সামনে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা।  

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং কংগ্রেসকে যুদ্ধবিরোধী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করার লক্ষ্যে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তারা। এই বিক্ষোভে কেবল সাবেক সেনারাই অংশ নেননি বরং তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন বর্তমানে কর্মরত সেনাসদস্যদের পরিবারের সদস্যরাও। 

অ্যাবাউট ফেস নামের একটি সংগঠন  বিক্ষোভটি পরিচালনা করে। সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ইরানের সঙ্গে বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে যুদ্ধ বন্ধ করার সব ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতেই রয়েছে কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

এদিকে, বিক্ষোভকারীরা দীর্ঘক্ষণ ধরে কংগ্রেস ভবনের সামনে অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু সাবেক সেনারা তাদের দাবি থেকে সরে আসতে অস্বীকার করেন। এর ফলে এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অন্তত ৬০ জন আন্দোলনকারীকে আটক করতে বাধ্য হন।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে চান না ট্রাম্প

একজন বিক্ষোভকারী তার ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, কংগ্রেসের ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তারা কার্যত কোনো ভূমিকা পালন করছে না। ক্যালিফোর্নিয়ার মতো অনেক দূর থেকে এসে তাদের বলতে হচ্ছে যেন তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এবং নিজেদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে। তার কাছে এটি একেবারেই অযৌক্তিক বলে মনে হয়েছে। 

আরেকজন বিক্ষোভকারী ইরাক যুদ্ধের সময়ের করুণ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বলেন, আজ তারা যেসব প্রতিশ্রুতি এবং অজুহাত শুনছেন সেগুলো ঠিক ইরাক যুদ্ধের সময়ের মতো। মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের উপস্থিতিকে বৈধতা দেওয়ার জন্য এই একই ধরণের যুক্তি বারবার সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বর্তমান সেনাদের পরিবারের সদস্যরা দাবি, এই যুদ্ধ সম্পূর্ণরূপে অপ্রয়োজনীয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ। তারা মনে করেন কোনো ধরনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া যদি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয় তবে তা আরও অনেক প্রাণহানির কারণ হতে পারে। তাদের মতে এই প্রাণহানি ঠেকাতে এখনই কংগ্রেসকে সাহসী এবং উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে হবে। সাধারণ মানুষের ওপর যুদ্ধের প্রভাব কেমন পড়ে তা তারা খুব কাছ থেকে অনুভব করছেন। তাই তারা চায় না আর কোনো পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারিয়ে শোকাচ্ছন্ন হোক।

আরটিভি/এআর