বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:৫৭ এএম
ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে জার্মানিমুখী একটি বড় তেল পাইপলাইন বন্ধের পরিকল্পনা নিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
মস্কো জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দ্রুজবা পাইপলাইন বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
এই পাইপলাইন দিয়ে কাজাখস্তানের তেল ইউরোপের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে জার্মানিতে পৌঁছায়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিসংক্রান্ত অস্থিরতার কারণে যখন বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে, তখন এই সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে জার্মানির জন্য এটি বড় ধাক্কা হতে পারে। দেশটির বার্লিনের জ্বালানির প্রায় ৯০ শতাংশ সরবরাহ করে এমন পিসিকে রিফাইনারির মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১৭ শতাংশ আসে এই পাইপলাইন দিয়ে।
জার্মান সরকার ইতোমধ্যে চলতি বছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে। আগে যেখানে ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশা করা হয়েছিল, সেখানে এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ০ দশমিক ৫ শতাংশে। জ্বালানি ও কাঁচামালের বাড়তি দামের চাপেই এই পূর্বাভাস কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। তেলের দাম বেড়ে প্রায় ১০০ ডলার প্রতি ব্যারেলে পৌঁছেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুরুর পর থেকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি ইউরোপে মূল্যস্ফীতিও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
জার্মানির অর্থমন্ত্রী ক্যাথেরিনা রাইখে বলেন, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা আমাদের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সংঘাত জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে জ্বালানিকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে রাশিয়া। এর আগেও ২০২২ সালে নর্ড স্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইন বন্ধ করে একই ধরনের চাপ তৈরি করেছিল মস্কো।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানি কমিশনার ড্যান জোরগেনসেন সতর্ক করে বলেছেন, সামনে ইউরোপের জন্য 'কঠিন সময়' অপেক্ষা করছে। তিনি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য জ্বালানি সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ঝোঁকার পরামর্শ দেন।
বিশ্ব জ্বালানি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্ক করে জানিয়েছেন, ইউরোপে জেট ফুয়েলের মজুত দুই মাসেরও কম সময়ের জন্য রয়েছে।
সব মিলিয়ে, পাইপলাইন বন্ধের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ইউরোপের জ্বালানি সংকট আরও তীব্র আকার নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
আরটিভি/এমএইচজে