বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ , ০৪:৩৭ পিএম
এখন আর সেই যুগ নেই, যেখানে শুধু মানুষেরই স্কুল থাকবে আর তারাই পড়াশোনা করবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শেখার জগতে যেন প্রবেশ করছে পশুপ্রাণীরাও। কুকুরের স্কুলের পর এবার আলোচনায় এসেছে বানরের স্কুল— যেখানে তাদের এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, দেখে মনে হয় যেন মানুষ বানানো হচ্ছে।
শুনতে মজার লাগলেও, চীনের ডংইং শহরে এটি এখন বাস্তবতা। সেখানে জাপানি ম্যাকাক প্রজাতির বানরদের জন্য চালু হয়েছে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণকেন্দ্র। এদের অনেকেই ‘স্নো মাংকি’ নামে পরিচিত, কারণ তারা সাধারণত শীতপ্রধান অঞ্চলে বসবাস করে।
প্রতিদিন সকাল হলেই শুরু হয় তাদের ‘ক্লাস’। তবে এখানে নেই কোনো বই-খাতা বা ব্ল্যাকবোর্ড। খোলা জায়গায় প্রশিক্ষকদের নির্দেশনায় চলে নানা ধরনের অনুশীলন। ছোট ছোট বানরগুলো কখনো লাফায়, কখনো দৌড়ায়, আবার কখনো তাল মিলিয়ে নাচের কৌশল শেখে।
ধীরে ধীরে এই প্রশিক্ষণ রূপ নেয় মঞ্চনির্ভর পরিবেশনায়। রঙিন ছোট পোশাক পরে যখন তারা মঞ্চে ওঠে, তখন দৃশ্যটাই বদলে যায়। হালকা সুরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারা নাচে—কখনো ঘুরে, কখনো হাত তুলে, কখনো দলবদ্ধভাবে কোরিওগ্রাফি করে দর্শকদের মুগ্ধ করে।
দর্শকদের কাছে এটি এক ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা। এখানে প্রাণীরা শুধু প্রাণী নয়, যেন একেকজন ছোট্ট পারফর্মার।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্যও সেটাই— প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এসব বানরকে পারফরম্যান্সের উপযোগী করে তোলা, যাতে তারা চীনের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে প্রদর্শনী করতে পারে। অর্থাৎ, এই স্কুল তাদের জন্য এক ধরনের প্রস্তুতিমূলক কেন্দ্র।
তবে বিষয়টি শুধু মজার বা বিস্ময়ের নয়, এর মধ্যে রয়েছে ভাবনারও অবকাশ। প্রাণীদের মানুষের বিনোদনের জন্য প্রস্তুত করা—এটাই কি তাদের স্বাভাবিক জীবন, নাকি এটি এক ভিন্নধর্মী বাস্তবতা—সে প্রশ্ন থেকেই যায়।
আরটিভি/এমএইচজে