বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ , ০৮:২১ পিএম
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে প্রথমবারের মতো টোল আদায় শুরু করেছে ইরান। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে পণ্য পরিবহনের ওপর শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে দেশটি।
বৃহস্পতিবার(২৩ এপ্রিল) ইরানের পার্লামেন্টের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এই তথ্য জানিয়েছেন।
পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদরেজা হাজিবাবাই সংস্থাটিকে জানিয়েছে, প্রণালিতে আরোপিত টোল থেকে অর্জিত প্রথম রাজস্ব সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে জমা হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় কোন দেশ বা কোন কোম্পানি অর্থ পরিশোধ করেছে, কিংবা ঠিক কত টাকা আদায় হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।
তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ইরানের এই দাবির সত্যতা তারা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে পারেনি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে এই জলপথ এখন উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরান এই রুটে জাহাজ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এখন সীমিত সংখ্যক জাহাজকে বিশেষ অনুমতির মাধ্যমে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি এক অপরিহার্য রুট। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে সম্পন্ন হয়। এছাড়া নিত্যপণ্য ও শিল্পকারখানার কাঁচামাল পরিবহনে এটি অন্যতম প্রধান মাধ্যম। যুদ্ধের দামামায় এই রুটটি সংকুচিত হওয়ায় বিশ্ববাজারের সরবরাহ চেইনে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। জাহাজ মালিকরা এখন এই রুট ব্যবহারের আগে কয়েকবার ভাবছেন।
এদিকে, গত ৩০ মার্চ ইরানের পার্লামেন্টের নিরাপত্তা কমিশন টোল আরোপের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছিল। দেশটির নীতিনির্ধারকরা বারবার সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই জলপথে জাহাজ চলাচল আর আগের মতো অবাধ থাকবে না। টোল আদায় প্রক্রিয়াটি একটি দীর্ঘ আলোচনার অংশ ছিল, যার প্রথম সফল বাস্তবায়ন দেখা গেল এবার। যদিও চূড়ান্ত সংসদীয় ভোটাভুটি বা আইনগত আইনি কাঠামো নিয়ে এখনও কিছুটা ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
তবে, ইরানের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করছে পশ্চিমা বিশ্ব। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন যেন হরমুজ প্রণালি সব দেশের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ ত্রিশটিরও বেশি দেশের সামরিক নীতিনির্ধারকরা এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। তারা মনে করছেন, টোল আদায়ের এই প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করবে।
আরটিভি/এআর